Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বাংলাদেশি দুই তরুণকে কম্বোডিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

বাংলাদেশি দুই তরুণকে কম্বোডিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

বিজ্ঞাপন

কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বাংলাদেশি তরুণকে পাচার, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রির অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সেখানে দুই তরুণকে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়। মুক্তির জন্য তাদের পরিবারের কাছে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণও দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির একটি দল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)। তাঁদের দুজনের বাড়িই গাজীপুরের পূবাইল এলাকায়।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিদেশে ভালো চাকরি ও আর্থিকভাবে সচ্ছল জীবনের আশায় মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান ওই দুই তরুণ। তাঁদের বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দেশটিতে পৌঁছানোর পরপরই তাঁদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। পরে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হয় তাঁদের। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল করলেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। সেখান থেকে নিজেদের ইচ্ছায় বেরিয়ে আসা কিংবা নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগও ছিল না তাঁদের।

একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন ওই দুই তরুণ। তখন তাঁদের মুক্তির জন্য স্ক্যাম সেন্টার থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় পরিবারের সদস্যরা সেই অর্থের ব্যবস্থা করেন। তবে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তির পর মানবপাচারকারীরা আবারও তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। দেশে ফেরার টিকিটের অর্থও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

এভাবে বিদেশে পাঠানোর খরচ, মুক্তিপণ ও দেশে ফেরার টিকিটের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হন ওই দুই তরুণ। একপর্যায়ে অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। প্রয়োজনীয় সহায়তায় দেশে ফেরার ব্যবস্থা হলে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন দুই ভুক্তভোগী।

সিআইডি জানায়, এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর পল্টন থানায় মামলা করা হয়। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬, ৭, ৮, ৯ ও ২২ ধারায় করা মামলাটির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার