Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ এএম

ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষায়। তাদের লাশের সঙ্গে স্বজনদের নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।

উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের কোনোটির ডিএনএর সঙ্গে তার নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও নাসরিনের পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে অবহিত করবে বলে জানান তিনি।

শনাক্ত হওয়া চার সদস্যের পরিবারটি ঢাকার শ্যামলী এলাকার। এই পরিবারের সদস্যরা হলেন, গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের নিহত ছয়জন হলেন, মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। আর লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। 

আরও পড়ুন
ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত

অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া লাশগুলো পুড়ে যাওয়ায় সেগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। সিআইডি লাশ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে স্বজনদের নমুনা মিলিয়ে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। এর ফলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের লাশ শনাক্তের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করার কথাও জানান তিনি।

নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন

অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজের তালিকায় থাকা ১১ জনের মধ্যে একজনের অবস্থান এখনো অজানা। তিনি স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৭)। উদ্ধার হওয়া কোনো লাশের ডিএনএ-এর সঙ্গে তার নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।

রিমন ঘোষ বলেন, ১০ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।

নাসরিন ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে তিনি কক্সবাজারে এসেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নাসরিনের বাবার নাম মোস্তফা কামাল।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার