Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর হলেন নবম শ্রেণির লাবনী

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম

এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর হলেন নবম শ্রেণির লাবনী

বিজ্ঞাপন

নীলফামারীর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবনী এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টরের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি এই সুযোগ পান। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বসের প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন লাবনী। একই সঙ্গে কন্যাশিশুর শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নেতৃত্বে কিশোরীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এর মধ্যে অন্যতম ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরীদের প্রতীকীভাবে সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের আসনে বসার সুযোগ দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য কিশোরীদের নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বসের প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ করেন লাবনী। এক দিনের অভিজ্ঞতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়, সে সম্পর্কেও ধারণা অর্জন করেন তিনি। তবে এটি ছিল প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণের কর্মসূচি, আনুষ্ঠানিকভাবে কান্ট্রি ডিরেক্টর পদে নিয়োগ নয়।

লাবনী নীলফামারীর একটি স্থানীয় যুবসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেয়েদের শিক্ষা, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার এবং স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। বিশেষ করে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করার কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আবার পড়াশোনায় ফিরতে উৎসাহিত করেছেন।

কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও কাজ করছেন লাবনী। স্থানীয় পর্যায়ে মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি প্যাড বিতরণ এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকারবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, বৃক্ষরোপণ এবং কমিউনিটি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও যুক্ত রয়েছেন। এসব কাজের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতীকী নেতৃত্ব গ্রহণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লাবনী জানান, এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়, সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বিশেষ করে কিশোরীদের মতামতেরও যে গুরুত্ব রয়েছে, এই অভিজ্ঞতা থেকে তা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি।

লাবনী বলেন, এই কর্মসূচি থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা তিনি নিজের এলাকার অন্য তরুণদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। তাঁর প্রত্যাশা, এতে অন্য কিশোর-কিশোরীরাও নিজেদের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, তরুণদের মতামত ও অংশগ্রহণ সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বসও এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মতে, লাবনীর মতো তরুণীদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও নতুন চিন্তাভাবনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

প্রতিবছর ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুর শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা এবং নেতৃত্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচিতে কিশোরীরা প্রতীকীভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পায়। লাবনীর অংশগ্রহণও এই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।

ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান লাবনী। পাশাপাশি তরুণদের সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত হতে উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। তিনি এমন একটি সমাজ দেখতে চান, যেখানে মেয়েরা বাধাহীনভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে এবং নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে। বাল্যবিবাহ ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও তাঁর প্রত্যাশার অংশ।

লাবনীর লক্ষ্য, নিজের অভিজ্ঞতা এলাকার অন্য কিশোরীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। বিশেষ করে যেসব মেয়ে সামাজিক বাধা কিংবা আত্মবিশ্বাসের অভাবে নেতৃত্বের সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে, তাদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করতে চান তিনি। স্থানীয় যুবসংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

এ বছর জাতীয় পর্যায়ে একাধিক ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচি আয়োজন করেছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এসব আয়োজনে কিশোরীরা প্রতীকীভাবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক মিশন ও উন্নয়ন সংস্থার নেতৃত্বের আসনে বসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কন্যাশিশুদের আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় তুলে ধরছে সংস্থাটি।

নীলফামারীর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবনীর এক দিনের প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ সেই উদ্যোগেরই একটি উদাহরণ। স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও কন্যাশিশুর অধিকার নিয়ে কাজ করা এই শিক্ষার্থী এবার একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেলেন। নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার