Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

উদ্বোধনের আগেই গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ এএম

উদ্বোধনের আগেই গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। অভিযানের প্রথম দিনেই উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় চারতলা একটি রিসোর্ট ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ভবনটির মালিক শহিদুল হকের দাবি, এটি নির্মাণে তার প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শিগগিরই রিসোর্টটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও তার আগেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ভবনটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে ইনানী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে এতে অংশ নেয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযান শুরুর আগে বেলা ১১টার দিকে রিসোর্টটির সামনে আনা হয় খননযন্ত্র। প্রথমে ভবনের নিচতলা ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভাঙা হয়। এরপর ভবনের কাচ ভেঙে মূল কাঠামোর পিলার গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কউক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভবনটি নিজ উদ্যোগে অপসারণের জন্য মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরও ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এ কারণে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

তবে ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিচতলায় দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার কক্ষ রাখা হয়েছিল।

শহিদুল হক বলেন, উচ্ছেদসংক্রান্ত চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছেন তিনি। ভবন নির্মাণের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার দেওয়া নথিপত্র বিবেচনায় নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এই ভবনমালিক।

মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক একটি প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডও আলোচনায় এসেছে। গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের পাটুয়ারটেক সৈকতে তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর পর্যটনকেন্দ্রটিতে হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণের অনুমোদন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার অনেকগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।

বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

কউক চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

এসব স্থাপনার মধ্যে দুই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তারকা মানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশের বৈধ অনুমোদন নেই বলে দাবি করেন তিনি।

অনুমোদনহীন শতাধিক পর্যটন স্থাপনা

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অনেক স্থাপনা অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট, কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ।

এ কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কউকের অনুমোদন না থাকলে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে, কিন্তু অনুমোদনপ্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোর বিষয়েও ভাবছে প্রশাসন। ব্যবসায়ীরা দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার সুবিধার্থে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় ব্যবস্থা

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার অভিযোগে সম্প্রতি ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।

এদিকে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে অনেক রিসোর্ট ও কটেজ নির্মিত হয়েছে। এসব অবৈধ হোটেল-রিসোর্টকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে তারাও।

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার