বিজ্ঞাপন
‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে আজকে ভুক্তভোগী’ বলা নারীকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
বিজ্ঞাপন
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উত্তেজনার মুখে পড়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাঁকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
তবে সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পায়নি পুলিশ। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ভিডিওটি চারবার দেখেছেন। সেখানে সরকারের সমালোচনামূলক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের বক্তব্য তাঁর বাক্স্বাধীনতার আওতাভুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওসি জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে তাঁকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরে এলে সাথী আক্তারকে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন ৩০ বছর বয়সী সাথী আক্তার। তিনি ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক। তাঁর বাবার নাম আমজাদ আলী।
৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড এবং ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই দুই ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাথী। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে আজ তিনি ভুক্তভোগী।
ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচারের দাবি জানান। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে, সেই অপরাধ সংঘটন ঠেকাতে তাঁকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয় বলে জানান তিনি।