Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

তিন দলিল ও মৃত্যু সনদ নিয়ে আপত্তি, রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

তিন দলিল ও মৃত্যু সনদ নিয়ে আপত্তি, রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুরে জমির নামজারি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভারতপ্রবাসী বিশ্বনাথ ভট্টাচার্যের নামে এক একর ১৪ শতাংশ জমির নামজারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তিনটি দলিল ও একটি মৃত্যু সনদের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনায় আবেদন করেও প্রায় এক বছর ধরে সমাধান পাননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অসীম কুমার দাস।

অন্যদিকে, পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা মৌজায় বিশ্বনাথ ভট্টাচার্যের নামে জমির নামজারি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগকারীদের দাবি, নামজারির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ২০০২ সালের ৫৬২১, ২০০১ সালের ৩৫৯১ এবং ২০১২ সালের ২৫৭১ নম্বর দলিলের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে একটি মৃত্যু সনদের তথ্য নিয়েও আপত্তি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অনলাইনে সংশ্লিষ্ট মৃত্যু সনদের তথ্য এবং জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দলিলগুলোর রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এসব নথির সত্যতা যাচাই না করে নামজারি কীভাবে সম্পন্ন হলো, তা জানতে চান তাঁরা। তবে দলিল ও সনদ জাল কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় অসীম কুমার দাস শরীয়তপুর সদর ভূমি কার্যালয়ে মিস মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় এক বছর পার হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

অসীম কুমার দাস বলেন, আমি আবেদন করেছি এক বছর হয়ে গেল, এখনো কোনো সমাধান পাইনি। আমি চাই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হোক।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নারী মালতি রানী বিশ্বাস বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব, যা করেছি ভুল করেছি।” তবে ভূমি কার্যালয়ে অর্থের বিনিময়ে নামজারি করানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত উত্তর না দিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নির্দেশনা এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস)-এ আবেদন করার পরও অনেক ফাইল মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন না। বিভাগীয় পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়ার পরও ফাইল নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁদের ভোগান্তি বাড়ছে।

তাঁদের প্রশ্ন, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে কেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ-

পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাজিরা উপজেলা সেনের চর এলাকার মো. ফারুক শিকদার। অভিযোগপত্রে ২০২০- ২০২১ সালের ১৫ ও ১৩ নম্বর ভূমি অধিগ্রহণ মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুদক মাদারীপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মহবুবুল আলম বলেন, দুদকের তিন সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে, যারা অভিযোগ তদন্তে কাজ করে থাকেন। আপাতত আমাদের একজন সদস্য না থাকায় আমরা কার্যক্রম পুরোপুরি চালাতে পারছি না। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধান হবে এবং অভিযোগগুলো অনুসন্ধানে কমিশন আরও জোরালোভাবে কাজ করবে।

বিতর্কিত দলিল ও মৃত্যু সনদ নিয়ে প্রশ্ন, নামজারি নিষ্পত্তিতে দেরি এবং ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ নিয়ে দুদকে অভিযোগ- সব মিলিয়ে শরীয়তপুরের ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীরা নথির সত্যতা যাচাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার