Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ ১,০৭৪ প্লটের কার্যক্রম স্থগিত

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ এএম

রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ ১,০৭৪ প্লটের কার্যক্রম স্থগিত

বিজ্ঞাপন

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলোর নথি যাচাই ও তদন্ত জোরদার করেছে সরকার। প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৪৪টি প্লট।

রাজউকের এসব বরাদ্দে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্ট বিভাগের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত একটি কমিটি নথিপত্র পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর পূর্বাচলের ৮৭৪টি ও ঝিলমিলের ২০০টি প্লটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া প্লটগুলোর বরাদ্দ প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্লটগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। রাজউক ও গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পিভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সৌর প্যানেল থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সরকারি ভবনের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পন্ন করা বিভিন্ন কাজের বিবরণও উপস্থাপন করা হয়। সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসদের ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি আগের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. রুহুল আমিন ও মো. তাজউদ্দীন খান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানেরা বৈঠকে অংশ নেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার