বিজ্ঞাপন
ঢাকায় ছেলের ছয়তলা বাড়ি, বাবুগঞ্জে ভাড়া বাসায় মিলল মায়ের পচনধরা মরদেহ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ এএম
বিজ্ঞাপন
চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করতে জীবনের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। স্বামীর মৃত্যুর পর কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ। বড় ছেলের ঢাকার উত্তরায় রয়েছে ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা। ছোট ছেলেও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। অথচ জীবনের শেষ সময়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন তাহমিনা বেগম (৬৫)।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ওই বাসা থেকে তাঁর পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তাহমিনা বেগম উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি উপজেলার নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একা বসবাস করছিলেন।
বাড়ির মালিক আব্দুল বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগমকে তার বড় ভাই ওই বাসায় ভাড়া রাখেন। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। মাঝেমধ্যে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন। তবে গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার বিকেল থেকে বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। প্রথমে পাশের কোনো কক্ষে ইঁদুর মারা যাওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি।
রোববার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাহমিনা বেগমের কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন বাড়ির মালিক। পরে তার বড় ভাইকে খবর দেওয়া হয়। তিনি এসে কক্ষের দরজা কিছুটা খোলা দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে বোনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী কদম আলী হাওলাদারকে হারান তাহমিনা বেগম। তখন তার চার সন্তান ছিল। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। সেখানে তার ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তার বিয়ে হয়েছে।
প্রতিবেশী শাহানা বেগম জানান, তাহমিনা বেগম প্রায় তিন মাস আগে ওই বাসায় আসেন। এর আগে তিনি কয়েকবার স্ট্রোক করেছিলেন বলে শুনেছেন তারা। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করতেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।
প্রতিবেশী আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, রাতে তাহমিনা বেগমের ছেলে মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ছোট মামার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিও বোনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাননি। রোববার সকালে বড় ভাই ওই বাসায় এসে বোনের মরদেহ দেখতে পান।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের বড় ভাই সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, তাহমিনা বেগমের ছেলে-মেয়েরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনেরা প্রথমে পুলিশকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে বাধা দেন। গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।