Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

চুরির টাকা ভাগ নিয়ে ফেঁসে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

চুরির টাকা ভাগ নিয়ে ফেঁসে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বিজ্ঞাপন

দুবাইয়ে এক বাংলাদেশির দোকান থেকে চুরি হয়েছিল ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। সেই টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য।

আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ ভাগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ আলমের বিরুদ্ধে।

পুলিশের দাবি, মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তিতে তার নাম উঠে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রামুর জেঠিরাস্তা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চুরির টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় প্রবাসী সাইফুল ইসলাম গত ১ অক্টোবর চকরিয়া থানায় মামলা করেন। তিনি কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া সিকদারপাড়ার বাসিন্দা।

মামলায় দোকানের কর্মচারী মো. নোমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মিলি আক্তার, উম্মে কুলছুম, রমিজুর রহমান তুহিন, মীর আহমদ ও জাহানারা আরজুসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, দুবাইয়ে তার দোকান থেকে ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে চুরি হওয়া অর্থের লেনদেন ও আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

স্বীকারোক্তিতে চেয়ারম্যানের নাম মামলার তিন নম্বর আসামি উম্মে কুলছুমের স্বীকারোক্তিতে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমের নাম উঠে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে উম্মে কুলছুম দাবি করেন, আত্মসাৎ করা টাকা থেকে শাহ আলম ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এরআগে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে প্রবাসী উল্লেখ করেন, সাইফুল দুবাইয়ে বোরকার ব্যবসা করেন। নোমান তার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরিচিতজন হওয়ায় নোমানকে বিশ্বাস করতেন সাইফুল। দুবাইয়ে তারা একই কক্ষে থাকতেন।

সাইফুলের ভাষ্য, দোকানের দৈনন্দিন বিক্রির টাকা তিনি শয়নকক্ষের একটি ক্যাশ ড্রয়ারে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। কয়েক দিন পর ওই টাকা দিয়ে দোকানের মালামাল কিনতেন কিংবা ব্যাংকে জমা দিতেন। ড্রয়ারের চাবি সব সময় নিজের কাছে রাখতেন। টাকা কোথায় রাখা হয়, তা নোমানেরও জানা ছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে শারীরিক ব্যায়াম করতে জিমে যাওয়ার সময় ভুল করে ক্যাশ ড্রয়ারের চাবি বিছানার বালিশের নিচে রেখে যান তিনি। তখন নোমান কক্ষেই ছিলেন।

সকাল ১০টার দিকে বাসায় ফিরে সাইফুল দেখেন, শয়নকক্ষের বিছানাপত্র, বালিশ ও কাপড়চোপড় এলোমেলো হয়ে আছে। কক্ষে নেই নোমানও। সন্দেহ হওয়ায় বালিশের নিচ থেকে চাবি নিয়ে ক্যাশ ড্রয়ার খুলে দেখেন, সেখানে রাখা দিরহাম উধাও। এরপর নোমানকে ফোন করেন সাইফুল। কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। পরিচিতজন ও প্রবাসীদের বিষয়টি জানানোর পরও নোমানের খোঁজ পাননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল বলেন, তদন্তে ঘটনার সঙ্গে শাহ আলমের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, তিনি রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছেন। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার