Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, যে দাবি তুললেন মাসুদ সাঈদী

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, যে দাবি তুললেন মাসুদ সাঈদী

বিজ্ঞাপন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তাঁর অভিযোগ, মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে কারও আপত্তি ছিল না; আপত্তি ছিল তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে মানিক পশারী কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত হলেন, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, শনিবার গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন এতে আপত্তি জানান।

তাঁর ভাষ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানিক পশারীকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়দের আপত্তি অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি করেন।

মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, মানিক পশারীর জানাজা বা দাফনে তাঁদের কোনো আপত্তি ছিল না। তাঁর দাবি, আপত্তির বিষয় ছিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান।

তবে মানিক পশারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না এবং তাঁর গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

মাসুদ সাঈদী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরার সময় মানিক পশারী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ট্রাইব্যুনালে মানিক পশারীর দেওয়া বলে উল্লেখ করা একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন।

মাসুদ সাঈদীর পোস্টে উদ্ধৃত বক্তব্য অনুযায়ী, মানিক পশারী বলেছিলেন, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। এ ছাড়া তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন বলেও ওই বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন মাসুদ সাঈদী।

এই বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে।

মানিক পশারী কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত হলেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন মাসুদ সাঈদী। তাঁর প্রশ্ন, কোন কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি বা রাজনৈতিক ব্যক্তি তাঁকে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে কারও নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মানিক পশারীর নাম গেজেট থেকে বাতিল এবং তাঁকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার