বিজ্ঞাপন
সাঈদীর মামলার সাক্ষীর মরদেহ দাফনে জামায়াত নেতাদের বাধা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁর মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফনের বিষয়ে বাধা দিয়েছেন জামায়াতের নেতারা। পরে পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, তিনি একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মানিক পশারীর জামাতা ফারুক হোসেন বলেন, সকাল ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গেলে গার্ড অব অনারের জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়াই কয়েক ঘণ্টা মরদেহ রাখতে হয়েছে। দাফনের বিষয়ে প্রশাসন কোনো দায়িত্ব নেয়নি। এ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না এবং পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। তাঁর মরদেহ চিতলিয়া গ্রামে দাফনের জন্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে লোকজনের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।