Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

২০ টাকার কাজ করতে হচ্ছে ১,৯০০ টাকায়! ভূমি অফিসে ক্যামেরায় ধরা পড়ল ‘দালালের’ দৌরাত্ম্য

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

২০ টাকার কাজ করতে হচ্ছে ১,৯০০ টাকায়! ভূমি অফিসে ক্যামেরায় ধরা পড়ল ‘দালালের’ দৌরাত্ম্য

বিজ্ঞাপন

সরকারি ফি ২০ টাকা, অথচ একটি নকল পেতে দিতে হয়েছে ১ হাজার ৯০০ টাকা! রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিস কেসের নকল দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রাশেদ নামে এক ওমেদারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অফিসের নিচতলায় সিঁড়ির পাশে নকল হস্তান্তর ও টাকা লেনদেনের দৃশ্য ধারণ করেন যুগান্তরের প্রতিবেদক। টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ বলেন, নামজারিসংক্রান্ত কাজের জন্য তিনি ১ হাজার ৯০০ টাকা নিয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

নকলের বিনিময়ে টাকা আদায় : বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কাঁটাবনে লালবাগ রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসে অনুসন্ধান চালায় যুগান্তর। এ সময় রাশেদকে অফিসের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তার হাতে ছিল সরকারি প্যাড। দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে নিচতলায় সিঁড়ির পাশে লালবাগের বাসিন্দা মো. উজ্জ্বলের হাতে একটি মিস কেসের নকল তুলে দেন তিনি। এরপর টাকা লেনদেন হয়। উজ্জ্বল জানান, জমিসংক্রান্ত মিস কেসের নকল নিতে গেলে রাশেদ নিজেকে ভূমি অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে নকল তুলে দেওয়ার কথা বলেন। তার অভিযোগ, প্রথমে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে চাইলে রাশেদ তা নিতে চাননি। পরে ১০০ টাকা করে কয়েক দফায় বাকি অর্থ নিয়ে মোট ১ হাজার ৯০০ টাকা নেন। অথচ নকলটির সরকারি ফি ২০ টাকা।

দালালচক্রের অভিযোগ : ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে এ কার্যালয়ে যাতায়াত করেন রাশেদ। লালবাগ ছাড়াও ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও তেজগাঁওয়ের বিভিন্ন সার্কেল অফিসে জমিসংক্রান্ত কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে তিনি দালালি করেন। তৃতীয় তলায় কম্পিউটার-সংক্রান্ত কাজ করা সুমন এবং ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচিত ওমেদার রাসেলও জমিসংক্রান্ত কাজে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। রাসেলের কাঁটাবনে পাঠক সমাবেশ ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া করা অফিস রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে তিনি আজিমপুরের লালবাগ তহশিল অফিসে ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি গ্রাহকদের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বাইরে নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে ফাইলের কাজ করিয়ে দেওয়ার সমঝোতা করেন। একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নির্ধারিত সময়ে ফাইল পাওয়া কঠিন হয়। অনিয়মের খবর প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিছুদিন আড়ালে থেকে আবার অফিসে আসেন।

নকলের উৎস নিয়ে দুই বক্তব্য : মিস কেসের নকলের সঙ্গে মিউটেশন শাখার মিস কেস সহকারী ও নাজিরের দায়িত্বে থাকা এসএম আরিফুর রহমান যুক্ত বলে অফিস সূত্র জানিয়েছে। তবে আরিফুর রহমান প্রথমে রাশেদকে চেনেন না বলে জানান। ভিডিও দেখানোর পর তিনি বলেন, রাশেদ স্টেশনারি ও দলিল-সংক্রান্ত স্ট্যাম্পসহ বিভিন্ন কাজ করেন, মাঝেমধ্যে অফিসে আসেন। উজ্জ্বলের নকল তার কাছ থেকে নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন আরিফ।

রাশেদ দাবি করেন, নকলটি তিনি আরিফুর রহমানের কাছ থেকেই নিয়েছেন, তবে এ জন্য আরিফকে টাকা দেননি। এ বিষয়ে দুজনের বক্তব্যে অমিল রয়েছে। পরে রাশেদ বলেন, নকল দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন, ১ হাজার ৯০০ টাকা নয়। তিনি আরও দাবি করেন, সুমন ও রাসেলও ভূমি অফিসে জমিসংক্রান্ত কাজ করেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দেননি। পরে লিখিত বার্তায় বলেন, তার অফিসে কোনো ওমেদার নেই। কোনো স্টাফের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে লিখিত আবেদন করা যাবে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ তদন্তের বিষয়ে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ ও উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার