বিজ্ঞাপন
টঙ্গীতে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি মামলা, শিক্ষক কারাগারে
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় শিশুটির অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে করিওল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ওই শিক্ষককে মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, ভুক্তভোগী শিশুটি তিন দিন ধরে মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে ভয়ে কিছু বলতে পারেনি সে। পরে বাবা-মা বারবার জানতে চাইলে মাদ্রাসার শিক্ষক মুসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করে শিশুটি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পর বুধবার দুপুরে তার বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসলেউদ্দিনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
তবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলমাস হোসেন দাবি করেছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত। এ বিষয়ে তারা থানায় অভিযোগ করেছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান শুক্রবার বলেন, “যৌন নিপীড়নের মামলায় ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির অভিভাবকদের আসামি করে আরেকটি মামলা করেছে। ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।