বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক মাদরাসার বার্ষিক ইসলামি মহাসম্মেলনে নিজের উপদেষ্টা হওয়ার গল্প তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। বৃহস্পতিবার বন্ধু-বান্ধবরা ফোন করে বলল, আপনার নাম উপদেষ্টা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আসেন। আমি বললাম, আমি কীভাবে ঢাকায় যাব? আমি তো হালিশহরে জুমার নামাজ পড়াই। পরে তারা জানাল, হঠাৎ শপথের ডাক এলে চট্টগ্রামে থাকলে শপথ নিতে পারবেন না।’
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফটিকছড়ির দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া আল-মদিনা মহিলা মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার ইচ্ছা করলে ক্ষমতা কেড়েও নেন। ক্ষমতা কোনো স্থায়ী বিষয় নয়। সুযোগ পেলে আমরাও জনগণের খেদমত করব।’
নিজের উপদেষ্টা হওয়ার গল্প তুলে ধরে ড. খালিদ বলেন, ‘শুক্রবার সকালে ঢাকার পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু গুলশানে গিয়ে পড়তে হয়- ঢাকার যানজটে। তখন এক বন্ধুর পরামর্শে স্কুটারে করে বঙ্গভবনের পথ ধরেন।
যাওয়ার পথে বিভিন্নজন তাকে অভিনন্দন জানান। টেলিভিশনে তার নাম উপদেষ্টা হিসেবে প্রচার হচ্ছে বলেও তাদের ফোনে জানতে পারেন। পরে রাত ৭টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোন পান। তাকে জানানো হয়, ‘রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং রাত সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবনে ঢুকে দেখি, ইসলামী দলগুলোর বড় বড় নেতারা উপস্থিত। সবার নাম লেখা আসনে বসে আমরা শপথ নিলাম। শপথের পর সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। আমার বাসা চট্টগ্রামে হওয়ায় ঢাকায় একটি রেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’
ধর্ম উপদেষ্টা থাকাকালে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, আমি উপদেষ্টা থাকাকালীন এক টাকাও ঘুষ খাইনি। হাজিদের টাকা ফেরত দিয়েছি। সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি। আরও কিছু টাকা রেখে এসেছিলাম, এই সরকার চার কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। চাইলে এসব টাকা আত্মসাৎ করলে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানত না। কিন্তু টাকা-পয়সা বড় বিষয় নয়, ইজ্জত-সম্মানই আসল।
হজ ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ হজে যান। তাদের মধ্যে ছয় হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যান। হজের কোটা ও চুক্তি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শাইখ কাজী ইকবালের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক ও সাংবাদিক এম জুনায়েদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় এই মহাসম্মেলন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি মাহমুদুল্লাহ।
এছাড়াও বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান করেন। মুসলমানদের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, যতদিন মুসলমানরা এক ছিল, ততদিন পৃথিবী মুসলমানদের ভয় করত। কিন্তু মুসলমানরা যখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে, ভাইয়ের বুকে ভাই ছুরি মারছে, তখনই মুসলমানরা দুর্বল হয়ে গেছে।