Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

সড়কে দুই দফা ডাকাতি, শতাধিক যাত্রীর মালামাল লুট

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

সড়কে দুই দফা ডাকাতি, শতাধিক যাত্রীর মালামাল লুট

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ছয়টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে সড়কের ওই এলাকায় মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাতেরা যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে।

এ সময় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের শতাধিক যাত্রীর মুঠোফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ডাকাতির শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য, ডাকাত দলের সদস্যসংখ্যা ছিল ১০ থেকে ১৫ জন। তাদের সবার মুখে মুখোশ ছিল এবং হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। তারা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহন থামান। এরপর যাত্রীদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালপত্র ছিনিয়ে নেন।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম শিফাতুল মাজদার ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত সড়কসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের অভিযান চলছিল। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ভোরে ডাকাতির কবলে পড়েন রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক। তিনি জানান, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে ডাকাতেরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে পারলেও অন্য যাত্রীদের মালপত্র লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

একই স্থানে দুপুরে আবার ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের যাত্রীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন। তাদের মধ্যে দুটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মীও রয়েছেন।

একটি এনজিওর ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, দুপুরে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাদের কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেন ডাকাতেরা।

রবিউল ইসলামের দাবি, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ৫০ থেকে ৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট চালান ডাকাতেরা। বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।

ঘটনার সময় সড়কে পুলিশের টহল ছিল না বলে অভিযোগ করেন রবিউল ইসলাম। তার ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাতি চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

একই এলাকার আরেকটি এনজিওর হিসাবরক্ষক আব্দুল হাকিমও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনজন একটি অটোরিকশায় করে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করেন। পরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেন।

আব্দুল হাকিমের ভাষ্য, দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি চলে। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে মুঠোফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ডাকাতির ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার