বিজ্ঞাপন
চালককে বেঁধে ৪০ লাখ টাকার গ্যাস ফিল্ডের মালামাল লুট, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ এএম
বিজ্ঞাপন
হবিগঞ্জের বাহুবলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চালকের হাত-মুখ বেঁধে কাভার্ডভ্যানসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার ৪ নং সদর ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দৌলতপুর সেতুর প্রায় ১০০ গজ সামনে একটি ডিআই পিকআপে থাকা দুর্বৃত্তরা মালামালবোঝাই কাভার্ডভ্যানটির গতিরোধ করে। এরপর তারা কাভার্ডভ্যানের চালক মিন্টু মিয়াকে জিম্মি করে তাঁর হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে চালককে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে মালামালসহ কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানে গ্যাস ফিল্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ছিল। এর মধ্যে বিয়ারিং, ফিল্টার, ফ্যান শ্যাফট, আই বোল্ট, স্টেইনলেস স্টিলের ফিটিংসসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ রয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। গভীর রাতে ব্যস্ত মহাসড়কে চালককে বেঁধে এভাবে মালামাল লুটের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানায় মামলা করা হয়। পরে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আসাদ আহমদ (৩৮), সজল মিয়া (৩২), বিপ্লব মিয়া (৩০) ও জাহেদা খাতুন (২৫)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাহুবলের উত্তরসুর গ্রামের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া মালামাল এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।