বিজ্ঞাপন
ট্রেনে উঠতে ৬০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয় যাত্রীদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ এএম
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার চকরিয়া রেলস্টেশনে। ফলে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষকে ঢাকা অভিমুখে ট্রেনে চড়তে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ ঘুরে কক্সবাজার রেলস্টেশনে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। এ দুর্ভোগ লাঘবে চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তাঁরা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন চকরিয়া। মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং লামা-আলীকদম এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। বর্তমানে স্টেশনটিতে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের স্টপেজ নেই। ফলে ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের নিজ এলাকার স্টেশন পেরিয়ে কক্সবাজারে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, চকরিয়া স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে যাতায়াতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং রেল যোগাযোগের সুবিধা আরও বিস্তৃত হবে।
চকরিয়ার গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী মো. সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো রেলপথ উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছিলেন তিনি। এর কিছুদিন পর বিষয়টি নিয়ে মতামত যাচাইয়ের জন্য রেলপথ অধিদপ্তর একটি পরিপত্র প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় রেলপথমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন তিনি।
সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে মানুষ রেলপথকে বেছে নিচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচলের বিষয়ে রেলওয়ের ঘোষণায় চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। চকরিয়া স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।
চকরিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ইবনে আমিন বলেন, চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। রেল যোগাযোগের সুবিধাও বাড়বে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন, চকরিয়া থেকে রেলপথে ঢাকা যেতে চাইলে যাত্রীদের আগে উল্টো দিকে কক্সবাজার যেতে হয়। যে ট্রেন চকরিয়া স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তাতে উঠতেও অন্য শহরে যেতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ নিরসনে চকরিয়া স্টেশনে পর্যটক এক্সপ্রেস ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই, এটি ঠিক। তবে সম্প্রতি চালু করা মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়ে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনের গুরুত্ব ও পরিচালনাগত বিষয়গুলো বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।