বিজ্ঞাপন
হেমায়েতপুরে মহিলা মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যে যা ঘটেছিল
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ এএম
বিজ্ঞাপন
সাভারের হেমায়েতপুরে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বালিকা মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৫ অক্টোবর নিখোঁজ ছাত্রী মারিয়া আক্তার লিমার (১২) পরিবারের সঙ্গে আসা লোকজন এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মারিয়া আক্তার লিমা (১২) মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিল। গত ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনাবাসিক ছাত্রীদের ছুটির সময় নিরাপত্তাকর্মীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদরাসা থেকে বেরিয়ে যায় সে।
পরে অভিভাবকদের জানায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা। জিডি নম্বর ১১৫৬।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ ছাত্রী মারিয়া আক্তার লিমা।
জিডির তদন্তে মাদরাসায় গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তা। মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্তে মারিয়ার সঙ্গে আল আমীন নামে এক ছেলের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়। সে ওই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলে গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
তবে পুলিশি তদন্ত চলার মধ্যেই ১৫ অক্টোবর সকালে মারিয়ার পরিবারের সদস্যরা কয়েকজন সাংবাদিক ও ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত ছিলেন বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।
মাদরাসার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা আবাসিক ভবনের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করেন। ভবনটিতে সাড়ে চার শতাধিক ছাত্রী থাকায় হামলা-ভাঙচুরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রীরা কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে।
খবর পেয়ে পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাঁদের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের অনুরোধে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণ দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে বহিরাগতদের দলবদ্ধভাবে প্রধান ফটকে জড়ো হওয়া এবং আবাসিক ভবনের গেটে ভাঙচুরের দৃশ্য রয়েছে। ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাদের প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক-সামাজিক নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের উপস্থিতিতে সাভার থানায় দুই পক্ষের বৈঠক হয়। মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তদন্তে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসা ও আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, হামলার উদ্দেশ্যও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। মাদরাসাটির অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী বৃহত্তর ঢাকা জেলা উত্তর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি হওয়ায়, এ ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজ বলেন, নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। দ্রুত ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হামলার অভিযোগ ও ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।