Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ইউনূসকে ভুলতে পারছেন না হাসিনা, নেপথ্যে কি?

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

ইউনূসকে ভুলতে পারছেন না হাসিনা, নেপথ্যে কি?

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন ২৬ মাস। ইউনূস সরকার বিদায় নিয়েছে আট মাস। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনীতিতে যেহেতু আসেননি আবার বয়সও নেই; তাই আর কোনোদিন ক্ষমতার চান্স নেই। সুতরাং ড. ইউনূস আর শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী শত্রু কোনোটাই নন। তাহলে শেখ হাসিনা কেনো এখনও ইউনূসকে ভুলতে পারেন না? হাসিনা সমর্থকরা কেনো এখনও ইউনূসকে শত্রু জ্ঞান করেন?

এর একটাই কারণ। ইউনূস সাহেব জুলাইয়ের ঘটনাবলী জাতিসংঘকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে শেখ হাসিনা এন্ড কোংকে এমন সিল মেরে দিয়েছেন, এটা মুছতে কত বছর বা কত দশক লাগবে, অনলি গড নোজ।

এ কথা অনস্বীকার্য বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান নাই। জুলাইয়ের প্রাণহানীর বিষয়ে ইউনূস সরকার পুলিশ বা বিচার বিভাগ, যাকে দিয়েই তদন্ত করাত, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকত। সহজে বলা যেতো, এইসব তদন্ত মিথ্যা, হয়রানি এবং প্রতিহিংসামূলক।

কিন্তু জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কোনো দেশের প্রতিষ্ঠান না। তারা যখন তদন্ত করে বলল, চব্বিশের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মিলিটারি গ্রেড আর্মস ব্যবহার করে নির্বিচার হত্যা করেছ, মানবতা বিরোধী অপরাধ রয়েছে, এর মূল হোতা শেখ হাসিনা এবং তার দল এর সযোগী; তখন দুনিয়াকে তা মেনে নিতে হয়েছে।

এই একটা রিপোর্টের কারণে দুনিয়ায় কেউ শেখ হাসিনা এন্ড কোং এর পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। দাঁড়াবে না। হিউম্যান রাটইস ওয়াচ, এমেনেস্টির মত সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ভবিষ্যতেও জানাবে। কারণ মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা তাদের মূলনীতি। তারা শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিচার প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ না পাওয়া নিয়েও বলছে এবং বলবে। কিন্তু বিচারের মুখোমুখি করাকে তারাও সমর্থন দিয়েছে।

কিন্তু জাতিসংঘ থেকে শুরু করে কোনো দেশ, শেখ হাসিনা এন্ড কোংকে ওভার থ্রো করা, বিচার করা নিয়ে এক শব্দ বলেনি। এমন কী ভারতও নয়। নির্বাচন নিয়েও এক শব্দ বলেনি। কোনো কোনো দেশের দুই একজন এমপি বা সাবেক এমপির বিবৃতি হয়ত লবিং করে আনা যাবে, কিন্তু কোনো সরকার হাসিনার সমর্থনে দুটি কথা বলবে না। কারণ জাতিসংঘের সেই প্রতিবেদন।

কিন্তু দেখেন, হাসিনা আমলে ইউনূসের বিচার, আইসিটির বিচার, বিরোধী মতের ওপর ক্র্যাকডাউন, নির্বাচন নিয়ে নানান দেশ নানা কথা বলেছে। প্রতিবেদন দিয়েছে।

জাতিসংঘ এমনিতে একটি লুথা প্রকৃতির সংগঠন। কিন্তু এটা কিছু বললে নৈতিক মূল্য অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিতে এবং নিজেদের প্রযুক্তিতে ইসারয়েল বিরাট হেডম। কিন্তু জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, গাজায় গণহত্যায় চালাচ্ছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু, রাষ্ট্রপতি হারজগ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্ট এতে উসকানিদাতা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান গ্রেফতারি পরোয়ানার সঙ্গে এই গণহত্যার অভিযোগ যুক্ত করা হোক।

ইসরায়েল এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করেছে। আমেরিকা প্রত্যাখান করেছে। তাদের এত শক্তি থাকার পরও কী এতে লাভ হয়েছে? নেতানিয়াহু এখন আন্তর্জাতিক আদালতের ফেরারি আসামি। হয়ত গ্রেপ্তার হবে না, কিন্তু এই আদালতের সদস্য দেশগুলোতে যেতে পারবে না।

এই প্রতিবেদনের পর ইউরোপের দেশগুলো ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। ইসরায়েলের ওপর নানা রকম নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। আমেরিকা ছাড়া কেউ তাদের পক্ষে আর বলছে না।

হাসিনা এন্ড কোং ইসরায়েলও না, আমেরিকাও না। ওই শক্তি তো কারুরই নেই। সুতরাং জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে প্রত্যাখান করে পার পাবে না। এটা তারা বোঝে বলে, প্রতিবেদন সংশোধনে চিঠি দিয়েছিল। সেটা পত্রপাঠ খারিজ হয়েছে।

এই জন্যই ইউনূসের ওপর এত ক্ষোভ। এটা সেটা করার চেষ্টা করে। কিন্তু এগুলো করে লাভ নেই। পথ হল, অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার