বিজ্ঞাপন
পাশের ফ্ল্যাটে অদ্ভুত শব্দ, দরজা খুলতেই হতভম্ব বাড়ির মালিক
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ এএম
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীতে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী দুলাল হাওলাদারের (৫০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মধ্যরাতে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর একটি পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিরিন বেগম (৪২) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিখাখালি গ্রামের মৃত সোহরাব আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে পাশের ফ্ল্যাট থেকে সন্দেহজনক কোপানোর শব্দ পান বাড়ির মালিক খোরশেদ আলম। ৮-১০ দিন আগে ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘক্ষণ কড়া নাড়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর দরজা খোলেন দুলাল।
ভেতরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি ও স্ত্রীর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন বাড়ির মালিক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রান্নাঘর থেকে শিরিনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুলালকে আটক করে।
মামলার বাদী ও নিহত দম্পতির ছেলে সিরাজ হাওলাদার জানান, তার মা শিরিন দীর্ঘদিন জর্ডানে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। দুই মাস আগে শাশুড়ির মৃত্যুর খবর শুনে দেশে ফিরে স্বামীকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকছিলেন। দেশে ফেরার পর থেকেই স্বামী দুলাল তার কাছে টাকা দাবি করতেন এবং এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এছাড়া ফোনে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলা নিয়েও তাদের মধ্যে সন্দেহ ও বিরোধ ছিল।
যাত্রাবাড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুলাল স্বীকার করেছেন যে, রবিবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রীর মাথা ধরে দেয়ালে আঘাত করলে তিনি জ্ঞান হারান। এরপর বটি দিয়ে স্ত্রীর মাথা ও দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখেন এবং আলামত হিসেবে রক্তের দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা চালান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সিরাজ হাওলাদার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।