বিজ্ঞাপন
ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
পাবনার সাঁথিয়ায় মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটার পর সোমবার ১২ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মায়ের দেখাশোনা করার এবং সারাজীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন সাগর।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মা মুন্নি খাতুনকে নিয়ে সাঁথিয়ার ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে হাজির হন সাগর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা। সেখানে মা ও ছেলে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান। সাগর জানান, আগের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং মায়ের দায়িত্ব পালন করতে চান।
নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর ৮ অক্টোবর ইউএনওর কার্যালয়ে শুনানির সময় মাকে মাসিক খরচ দিতে রাজি হলেও সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ইউএনও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং ১২ অক্টোবর আবার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার সময় দেন। এর মধ্যেই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আদালতের নজরে আসে।
রোববার ১১ অক্টোবর পাবনার আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনা হয়। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটানোর পর মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি হন সাগর। নিজের আচরণের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলেও আশ্বাস দেন। এরপর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ।
ছেলের সিদ্ধান্ত বদলানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুন্নি খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের প্রতি তাঁর আর রাগ বা অভিমান নেই। ছেলেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জীবনের বাকি সময় তাঁর কাছেই থাকতে চান। তাঁর ভাষ্য, তিনি ছেলের সান্নিধ্যই চেয়েছিলেন, এখন সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।
সাগরও জানিয়েছেন, আগের বক্তব্য আবেগের বশে দিয়েছিলেন। আদালতে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। এখন মাকে কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। মায়ের সঙ্গে আগের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন সাগর।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বিরোধ মেটার পর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবরও নিচ্ছে পুলিশ।