বিজ্ঞাপন
জমির দলিলে ভুল হলে সহজে সংশোধন করবেন যেভাবে
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ এএম
বিজ্ঞাপন
জমি কেনার পর দলিলে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, জমির চৌহদ্দি কিংবা নামের বানানে ভুল ধরা পড়লে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে।
অনেকের ধারণা, দলিল একবার নিবন্ধন হয়ে গেলে আর সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে ভুলের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগতভাবে দলিল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য কখনো সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হয়, আবার কখনো আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়।
দলিল কীভাবে সংশোধন করবেন?
দলিলে এমন ভুল থাকলে, যা সংশোধন করলে জমির মালিকানা বা দলিলের মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয় না, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করে করণীয় জেনে নেওয়া যেতে পারে। তবে ভুলের কারণে মালিকানা, জমির পরিমাণ বা পক্ষগুলোর অধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তির প্রয়োজন হতে পারে।
নির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী, প্রতারণা বা পক্ষগুলোর পারস্পরিক ভুলের কারণে কোনো লিখিত দলিল তাদের প্রকৃত অভিপ্রায় প্রকাশ না করলে আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা করা যায়। আদালত প্রমাণ পর্যালোচনা করে সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
আদালতে যেতে হলে কী করবেন?
দলিলের ভুল সংশোধনে আদালতে যাওয়ার আগে দলিলের মূল কপি, আগের দলিল, খতিয়ান, পর্চা এবং ভুলের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ভুলটি কী ধরনের এবং কোন আইনি প্রতিকার প্রযোজ্য, তা নির্ধারণে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দলিল সংশোধনের মামলা করার সময়সীমা সব ক্ষেত্রে একইভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই তিন বছর পার হলেই সংশোধনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়—এমন ধারণা না করে ঘটনার বিবরণ ও প্রযোজ্য তামাদি আইন যাচাই করা উচিত।
দলিল লেখার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
জমি কেনার আগে ক্রেতাকে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। যেমন—
বিক্রেতার পরিচয় ও সক্ষমতা: বিক্রেতা আইনগতভাবে জমি বিক্রির অধিকারী কি না এবং তার পরিচয় সঠিক কি না, তা যাচাই করুন।
মালিকানার কাগজপত্র: আগের দলিল, খতিয়ান, পর্চা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পেলে উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করুন।
জমির পরিচিতি: জেলা, উপজেলা, মৌজা, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির শ্রেণি ও পরিমাণ সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না, দেখুন।
জমির চৌহদ্দি: জমির উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সীমানা এবং সংলগ্ন জমির বিবরণ যাচাই করুন।
জমির পরিমাণ ও মূল্য: মোট জমির পরিমাণ, বিক্রয়মূল্য, বায়নার টাকা এবং বাকি পরিশোধযোগ্য অর্থ দলিলে সঠিকভাবে উল্লেখ আছে কি না, নিশ্চিত করুন।
স্বাক্ষর ও সাক্ষী: দলিলের প্রয়োজনীয় স্থানে বিক্রেতার স্বাক্ষর বা টিপসই, দলিল লেখকের স্বাক্ষর এবং সাক্ষীদের তথ্য ঠিক আছে কি না, যাচাই করুন।
কাটাকাটি ও সংশোধন: দলিলে অপ্রয়োজনীয় কাটাকাটি, ঘষামাজা ও অস্পষ্টতা এড়িয়ে চলুন। কোনো সংশোধন প্রয়োজন হলে তা আইনসম্মতভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, নিশ্চিত করুন।
দলিল লেখক নির্বাচন: দক্ষ ও অভিজ্ঞ দলিল লেখকের সহায়তা নিন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তালিকাভুক্ত কি না, তা যাচাই করে নিন।
সতর্কতাই পারে জমি নিয়ে বিরোধ কমাতে
জমির দলিল তৈরির সময় সরকারি নমুনা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং একাধিকবার প্রুফ দেখা ভুলের ঝুঁকি কমাতে পারে। বিশেষ করে দাগ ও খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ এবং চৌহদ্দি লেখার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দলিলে কোনো ভুল ধরা পড়লে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই ভালো।