Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, জবাবদিহি করতে হবে এমপিদের

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, জবাবদিহি করতে হবে এমপিদের

বিজ্ঞাপন

দলের ভেতরে যে কোনো মূল্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। 

তিনি বলেছেন, ‘চাঁদাবাজ ও দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে নেই।’ তারেক রহমান এ সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। 

এছাড়া দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ-সদস্যদের (এমপি) কঠোর নির্দেশ দেন। 

বিশেষ করে আসছে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সতর্ক থাকতে বলেন তারেক রহমান। 

রোববার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়, যা শেষ হয় রাত ৯টা ২০ মিনিটে। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। 

বৈঠক সূত্র জানায়, তারেক রহমান সংসদ-সদস্যদের উদ্দেশে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ‘কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সংসদ-সদস্যদেরও জবাবদিহি করতে হবে। অনেক সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সংসদ-সদস্যরা যদি কর্মীবান্ধব না হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তাহলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

এ সময় তিনি সংসদ-সদস্যদের সমস্যার কথাও জানতে চান।

আরও পড়ুন
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তারেক রহমান। এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারে গঠিত বিশেষ কমিটির কাজ নিয়ে আলোচনা হয় এবং এ বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হয়। 

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেন সংসদ নেতা। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মী, এমপি-মন্ত্রী কেউ কোনো অপকর্মে জড়ালে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান।

 নাম প্রকাশ না করে এক সংসদ-সদস্য বলেন, ‘সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী কাজ হয়েছে, সেসব কাজের অগ্রগতি কতটা এবং বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া সংসদ-সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার সমস্যা ও মানুষের প্রত্যাশার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। 

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে জনপ্রিয় এবং যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। 

সংসদ-সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সংসদ-সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন, আমরা যাতে জনগণের সঙ্গে থাকি, জনগণের সঙ্গে থেকে কাজ করি, যাতে জনগণ সন্তুষ্ট থাকে। প্রধানমন্ত্রী দলের সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও তাগিদ দিয়েছেন।

সাধারণত সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগের দিন, অথবা অধিবেশন শুরুর দিন এ ধরনের সভা হয়ে থাকে। তবে এবার নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য অধিবেশনের আগেই প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বিশেষ এই সভার আহ্বান করেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার