বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আহত
রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ এএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল শনিবার আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস এ ঘটনায় খোঁজখবর রাখছে। অন্যদিকে এরই মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে।
গতকাল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। দুজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি বলেন, গতকাল রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানিয়েছেন, বিমানবন্দরটিতে হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে একাধিক আহত ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখা যায়।
এদিকে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, গতকাল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
গতকালের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪ দেখিয়েছে, গতকাল রিয়াদগামী সব ফ্লাইটকে হয় অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে। এক পর্যায়ে বিমানবন্দরের ওপর কেবল একটি হেলিকপ্টার উড়ছিল।
এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের পর রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বিমানের নির্ধারিত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা ফ্লাইট ‘বিজি৩৩৯’ এবং ‘বিজি৩৪০’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে এবং এসব ফ্লাইটের পুনর্নির্ধারণ বা অবস্থা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত তথ্য আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বিমান বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য বিমান কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিকটতম বিমানের বিক্রয় অফিসে যেতে পারেন। হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে বিমানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে।
গতকাল কুয়েত এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় তারা সৌদি আরবের রাজধানীগামী এবং সেখান থেকে আসা ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছে। গত বৃহস্পতিবার এবং সপ্তাহের শুরুতে হুতিদের হামলার কারণে বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা রিয়াদে তাদের পরিষেবা স্থগিত বা বাতিল করেছে।
অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আহতের শঙ্কা : সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের বোমা হামলার ঘটনায় জেদ্দাগামী ফ্লাইটের অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। কয়েকজন নিখোঁজ এবং কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গতকাল রাতে হামলার শিকার রিয়াদ এয়ারের একাধিক বাংলাদেশী যাত্রী এ তথ্য জানান। তাঁরা জানান, জেদ্দাগামী ফ্লাইটে ওঠার জন্য বোর্ডিংয়ের অপেক্ষায় থাকার সময় এ ঘটনা ঘটে। কাচ ভেঙে কয়েকজনের শরীরে ও পায়ে আঘাত লাগে। হঠাৎ এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁদের বিমানবন্দরের একটি অংশে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হক ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলের মালিক নিয়ামুল হক জানান, তাঁদের এজেন্সির ৪১ জন যাত্রী গতকাল সকালে জেদ্দার উদ্দেশে রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইটে রওনা হন। এর আগে ফ্লাইট-সংক্রান্ত সমস্যায় আটকে থাকা আরো পাঁচজন যাত্রী তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। সব মিলিয়ে তাঁদের এজেন্সির ৪৬ জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুমের ৪৫ জনও একই ফ্লাইটে ছিলেন।
নিয়ামুল হক জানান, যাত্রীদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটটি রিয়াদে পৌঁছানোর পর জেদ্দাগামী পরবর্তী ফ্লাইটে ওঠার জন্য বোর্ডিং শুরু হচ্ছিল। ঠিক ওই সময় বিমানের ককপিটের দিকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কাচ ভেঙে কয়েকজনের শরীরে ও পায়ে ঢুকে যায়। কিছু যাত্রী ইহরাম পরার জন্য মসজিদে অবস্থান করায় তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন।
তিনি আরো জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য বিমানবন্দরের ভূগর্ভস্থ অংশে নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে মাওলানা আবুল হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সিলেটের চিকিৎসক জাকিরের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফ্লাইটে থাকা মাওলানা আবুল হোসেন জানান, নিজের ও ভাইয়ের পরিবারের ১১ জন সদস্য নিয়ে তিনি ওই ফ্লাইটে ছিলেন। বোর্ডিংয়ের সময় হঠাৎ ওপর থেকে লাল আগুনের মতো কিছু আসতে দেখেন। এর পরই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সবাই হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসেন। তিনিও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান।
হতাহতদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেককে আহত অবস্থায় দেখেছেন। কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায়ও পড়ে থাকতে দেখেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আজ (গতকাল) বিকেল ৩টায় একটি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে রিয়াদ বিমানবন্দরে। তবে সেখানে বাংলাদেশের কতজন আছেন তা এখনো জানা যায়নি। বিধি-নিষেধের কারণে সৌদি সরকার বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর রাখছি। এরই মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে।’ সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স