বিজ্ঞাপন
তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, উঠে এল নৃশংস ঘটনার বর্ণনা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
বিজ্ঞাপন
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশ জানায়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালকের সঙ্গে কথা বলে জান্নাতুল। চালক প্রথমে ৫০০ টাকা ভাড়া চান। পরে জান্নাতুল ৩০০ টাকা দিতে পারবে জানালে চালক তাকে নিয়ে যেতে রাজি হন। যাত্রা শুরুর পর সামনে একটি দোকান থেকে রুটি ও কলা কেনা হয়। এ জন্য জান্নাতুল সিএনজিচালককে ১০০ টাকা দেয়।
এরপর তারা আবার যাত্রা শুরু করে। একপর্যায়ে জান্নাতুলকে সংক্ষিপ্ত পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুর সড়কের দিকে চলে যান। পরে বিজড়া বাজার হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চালক হঠাৎ সিএনজি বন্ধ করে দেন। এতে ভয় পেয়ে জান্নাতুল চালককে জায়গাটি কোথায়, তা জিজ্ঞেস করে। চালক তাকে জানান, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। এরপর জান্নাতুল সিএনজি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশের দাবি, এ সময় সুমন মিয়া তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তার ওপর চড়াও হন। জান্নাতুল চিৎকার করলে চালক সিএনজিতে থাকা গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে জান্নাতুল দুর্বল হয়ে পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি জান্নাতুলকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাটিতে উপুড় করে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে হত্যা করেন বলে পুলিশের কাছে বর্ণনা দিয়েছেন। এরপর জান্নাতুলের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুলের ব্যবহৃত ব্যাগটি উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে সিএনজি রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে গিয়ে একটি পুকুরে গোসল করেন। এরপর অন্য একটি ভাড়ায় চালিত সিএনজিতে করে বাকরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে জান্নাতুলের আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান।
এর আগে ৮ তারিখ লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে চালক সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না।
তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।