Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

রংপুরে ৪ খুন: খেজুর-শসা-সিগারেট কারা খেয়েছিল নিশ্চিত করলো সিআইডি

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

রংপুরে ৪ খুন: খেজুর-শসা-সিগারেট কারা খেয়েছিল নিশ্চিত করলো সিআইডি

বিজ্ঞাপন

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার জনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার খেজুর, শসা ও সিগারেটের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতের সঙ্গে গ্রেফতার আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ'র শতভাগ মিল পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিআইডির ঢাকায় অবস্থিত পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো ডিএনএ প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই মামলা তদারকির দায়িত্বে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

সিআইডি ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে সন্দেহজনক কিছু নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। আজ সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পায় ডিবি।

ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সে সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় খেজুর, কামড়ে খাওয়া শসার অংশ এবং সিগারেটের অংশ বিশেষ। সেগুলো পরে সিআইডি’র ঢাকায় অবস্থিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরে ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনার শতভাগ মিল পাওয়া যায়। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অপরাধীদের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখবে এই পরীক্ষা।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ওই দুই আসামি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এটা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষায়। যেকোনও ল্যাবে পরীক্ষা করলেও একই প্রতিবেদন আসবে।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সিআইডির প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। আমরা এখন নিশ্চিত হয়েছি হত্যাকাণ্ডের সময় আসামিরা যে খেজুর, শসা ও সিগারেট খেয়েছিল; ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত সেসব আলামত গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহৃত বলে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে। এটা এখন শতভাগ সত্য।’

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে গণপতিদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উঠে গণপতিদের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন।

ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর ভাষ্য, দ্বিতীয় তলায় আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন গণপতি, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের দুই সন্তান। ভোররাতে শব্দ পেয়ে গণপতি তৃতীয় তলার খোলা ছাদে গেলে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে তাদের সিঁড়িতেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, চার জনকে হত্যার পরও কিছু সময় বাড়িতে ছিলেন দুই আসামি। তারা গোসল করেন, খেজুর ও শসা খান এবং তিনটি আলমারি খুলে কাপড়সহ তিনটি কক্ষের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করেন। পরে ১৫ হাজার টাকা ও ছয় সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা চলে যান বলে দাবি ডিবি পুলিশের।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার