বিজ্ঞাপন
ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে নারীর সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্ক
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
বিজ্ঞাপন
নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আরেক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মফিজুর রহমান।
তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকার সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে কীভাবে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন দাবি করেন।
মফিজুর রহমানের ভাষ্য, ওই নারী তার পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছিলেন। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে মফিজুর রহমানের সঙ্গে ওই সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অন্য এক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে বিকাশে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলে নগদে টাকা পরিশোধের কথা বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে জানতে পেরেছে এবং তাকে সতর্কও করা হয়েছে।
কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।