বিজ্ঞাপন
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই দেওয়া বিধবার ‘স্বামী’ কে এই আবদুল কুদ্দুস?
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বিজ্ঞাপন
ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবার কাছ থেকে কাগজে টিপসই, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই নারী জানতে পারেন, কাগজপত্রে তার বিয়ে হয়ে গেছে। এমনকি তাকে দেখানো হয় একটি কাবিননামাও। কাবিননামায় বর হিসেবে নাম রয়েছে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের।
সম্প্রতি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কাবিননামায় থাকা বরকে ঘিরে। কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী বিধবার দাবি, তিনি কাউকে বিয়ে করেননি, কোনো কাবিননামায় স্বাক্ষরও করেননি।
জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন ওই ৪৩ বছর বয়সী নারী। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এবং তাদের বিয়েও দিয়েছেন। এখন তার নাতি-নাতনিও রয়েছে।
ওই নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় আবদুস ছাত্তার তার কাছ থেকে একটি কাগজে টিপসই নেন। একই সঙ্গে নেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই টিপসই ব্যবহার করে তার নামে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাড়িতে গিয়ে কথা বললে ওই নারী বলেন, ‘আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি। কোনো কাজিকেও দেখিনি। ফ্যামিলি কার্ড করে দিতে আবদুস ছাত্তারকে তার কথামতো একটি কাগজে টিপসই দিয়েছি মাত্র।’ তার দাবি, বিয়েতে তিনি কোনো সম্মতি দেননি এবং কোনো কাবিননামায়ও সই করেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আবদুল কুদ্দুসের আগে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তিনি কখনো সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। আবদুল কুদ্দুসের নিজেরও স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনি রয়েছে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কুদ্দুসের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, তার স্বামী তাকে বিয়ের বিষয়ে আগে কিছু জানাননি। পরে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে কুদ্দুস দাবি করেন, তিনি ওই নারীকে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন।
সুফিয়া খাতুন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি কারও কথা শোনেননি।
তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি হিসেবে গোলাম মোস্তফার নাম রয়েছে। সেখানে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নামও রয়েছে।
তবে সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ওই বিয়ের কোনো সাক্ষী ছিলেন না। কাজি গোলাম মোস্তফাও দাবি করেছেন, তিনি ওই নারীর বিয়ে সম্পন্ন করেননি। তার ভাষ্য, ছড়িয়ে পড়া কাগজটি সম্পূর্ণ জাল।
গোলাম মোস্তফা জানান, ২০২০ সালেও তার নাম ব্যবহার করে এমন একটি জাল কাগজ তৈরি করা হয়েছিল। তখন তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবারও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিশ বসে। তবে সালিশে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিশে নেতৃত্বে দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী।
রুস্তম আলী বলেন, ‘কীভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ঘটনাটি তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। কিন্তু এখনও থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।