বিজ্ঞাপন
নিষেধাজ্ঞার আগে মাইকিং করে ইলিশ বিক্রি, বাজারে ক্রেতার ভিড়
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ এএম
বিজ্ঞাপন
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে মধ্যরাত থেকে। নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার অন্তত ২০টি মাছের বাজারে মাইকিং করে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর এসব বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েছে।
জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
উপকূলীয় এলাকায় সাধারণত সন্ধ্যার পর মাছের বাজারগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে বুধবার সন্ধ্যার পর কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, চাপলীসহ বিভিন্ন বাজারে ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে বাজারগুলো।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
স্থানীয় ক্রেতা ফরিদ উদ্দিন বিপু বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগে পরিবারের জন্য ইলিশ কিনতে বাজারে এসেছি। তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তারপরও প্রয়োজন অনুযায়ী ইলিশ কিনছি।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী বাবুল খান বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। তাই সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতাদের চাপ বেশি। আমরা নিয়ম মেনেই ইলিশ বিক্রি করছি।
চাপলী বাজারের ব্যবসায়ী আয়নাল আলী বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে ২২ দিন ইলিশের ব্যবসা বন্ধ থাকবে। তাই শেষ সময়ে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে ইলিশের দাম নির্ভর করছে আকার ও মানের ওপর।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর থেকে কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, আশাখালী, দুলাসার, চাপলী ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জেলে ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে।
মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, কলাপাড়া উপজেলার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩৬৪ জন জেলের জন্য ৪৫৯ দশমিক ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদী ও সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার নির্ধারিত ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।