Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ফের মোদি-ত্রিবেদী বৈঠক : নানা প্রশ্ন কৌতূহল গুঞ্জন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ এএম

ফের মোদি-ত্রিবেদী বৈঠক : নানা প্রশ্ন কৌতূহল গুঞ্জন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক অনির্ধারিত সফরে দিল্লি গেছেন। সোমবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে একটি বিমানে দিল্লি পৌঁছান। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র এমনটাই নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান নিয়েই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ঢাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।

দিল্লির সূত্র আরও জানায়, মোদির সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে দিল্লির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার অনুরোধ এখনো ভারতের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়ও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

দীনেশ ত্রিবেদী এমন একটি সময়ে দিল্লিতে গেছেন, যখন ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের উন্নতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে ৫ অক্টোবর সোমবার ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে এক সাক্ষাৎকার দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি সেই সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড।

তিনি বলেন, সফরটি দ্বিপক্ষীয় হবে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জটি খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়। শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীরা দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যা ভারতেরও কোনো উপকারে আসছে না।

তবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকায় এ আলোচনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখছি। ভারত তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। দুই দেশের মধ্যে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। হুমায়ুন কবির বলেন, উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে বলে আশাবাদী।

এদিকে ৩ অক্টোবর ঢাকায় একই আয়োজনের উদ্বোধনী দিন একটি সেশনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার