Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

রাবিতে হামলার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিকের ভিডিওবার্তা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ এএম

রাবিতে হামলার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিকের ভিডিওবার্তা

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহত চার সাংবাদিক হলেন—আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১০টার দিকে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ প্রায় ১০ জন নেতা-কর্মী এ হামলা চালান।

এদিকে ওই হামলার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন আহত সাংবাদিকদের একজন, দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাবি সাংবাদিক সমিতির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক মাঈনুল ইসলাম রাজু।

ভিডিওবার্তায় সাংবাদিক রাজু জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব ও তার অনুসারীরা বেশ কিছুদিন ধরে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে দেশীয় অস্ত্র, রামদা, বেসবল ব্যাট ও পাইপ নিয়ে ছাত্রদলের একটি দল মহড়া দিচ্ছিল। এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে তারা সেখানে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রাজু বলেন, ‘পেশাগত কাজের অংশ হিসেবে আমি যখন আমার মোবাইলের ভিডিও ক্যামেরাটি অন করি, তখন খুবই জোরালো ও ভয়ঙ্কর রূপে লাঠি হাতে আমার দিকে হেঁটে আসে আহসান হাবীব ও তার দল। আমাকে বলা হয়, ‘তুই ছাত্র ইউনিয়নের গুপ্ত সাংবাদিক, তুই ছাত্র ইউনিয়ন করিস’—এ কথা বলতে বলতেই তারা আমার মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং আমার হাঁটুতে আঘাত করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আরও কয়েকজন আমাকে ঘিরে ফেলে একের পর এক বেধড়ক পেটাতে থাকে।’

রাজু জানান, তাকে বাঁচাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি এগিয়ে এলে তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে ছাত্রদলের আরেক নেতা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিরাপদে সরিয়ে নেন।

প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতিতেই দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন রাজু। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা হলের ভেতর নিরাপদ অবস্থানে ছিলাম। এর মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হন। সে সময় ঘটনার খোঁজখবর নিতে ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ভাই এলে আহসান হাবীব চিৎকার করে ‘কে আসছে রে, কে আসছে রে’ বলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি আমার তিন বছরের সাংবাদিকতা জীবনে প্রক্টরের সামনেই একজন সাংবাদিককে এভাবে পেটাতে দেখিনি।’

তিনি আরও জানান, মৃদুলকে বাঁচাতে গিয়ে আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে লক্ষ্য করে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করা হলে তার মাথা ফেটে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরে রাজু বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পাঠায়। কিন্তু সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের অবহেলায় সঠিক সেবা না পেয়ে আমাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। জাহিদুল ভাইয়ের মাথায় সেলাই লেগেছে এবং তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে। আর কোরবানের বুকে লাঠির সজোরে আঘাত লাগায় তীব্র ব্যথায় শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।’

ভিডিওবার্তার শেষ অংশে রাজু এই নজিরবিহীন ও বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল কী ধরনের আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার