বিজ্ঞাপন
পাসপোর্টে বাবা পাল্টে দেশত্যাগের চেষ্টা, অতঃপর...
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ এএম
বিজ্ঞাপন
পাসপোর্টে বাবার পরিচয় পরিবর্তন করে অন্য দুই ব্যক্তিকে বাবা হিসেবে দেখিয়ে মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছিলেন দুই তরুণ। এ ঘটনায় ওই দুই তরুণসহ চারজনকে আটক করেছেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে এ ঘটনা।
এদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে তাদের কুয়ালালামপুর যাওয়ার কথা ছিল। চারজনের বোর্ডিং পাসে রাত ৮টায় বোর্ডিংয়ের সময় উল্লেখ ছিল। তাদের আসনও ছিল পাশাপাশি ১০ নম্বর সারিতে।
আটক চারজনের নাম মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ শাবুর মিয়া, আতিকুর রহমান ও নাজমুল ফকির অপু বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে- হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়া বয়স্ক এবং আতিকুর রহমান ও অপু তরুণ।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পাসপোর্ট যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, আতিকুর রহমানের পাসপোর্টে বাবার নাম হিসেবে হেলাল উদ্দিনের নাম রয়েছে। মায়ের নাম নাসিমা আক্তার। জরুরি যোগাযোগের জন্য ব্যক্তি হিসেবেও হেলাল উদ্দিনের নাম এবং সম্পর্কের ঘরে ‘বাবা’ উল্লেখ করা হয়েছে। দুই পাসপোর্টে ঠিকানা হিসেবে শরীয়তপুরের নড়িয়ার নবগ্রামের একই ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নাজমুল ফকির অপুর পাসপোর্টে বাবার নাম হিসেবে শাবুর মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ঢাকার কদমতলীর ৯৯০ পশ্চিম মোহাম্মদবাগ। অপুর জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তি হিসেবেও শাবুর মিয়ার নাম এবং সম্পর্কের ঘরে ‘বাবা’ লেখা রয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পাসপোর্টের এসব তথ্য যাচাইয়ের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে অসংগতি ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, দুই তরুণের পাসপোর্টে তাদের বাবার পরিচয় পরিবর্তন করে হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়াকে বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তবে পাসপোর্টের অন্যান্য তথ্য অপরিবর্তিত ছিল।
ইমিগ্রেশন কাউন্টারে হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়া দুই তরুণকে নিজেদের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিয়ে একসঙ্গে দেশ ছাড়ার জন্য ছাড়পত্র নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে, তথ্যের অসংগতি ধরা পড়ায় দেশ ছাড়ার আগেই তাদের আটকে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তাদের বয়সের তথ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে। হেলাল উদ্দিনের পাসপোর্ট অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৭৭ সালের ১২ মার্চ। আতিকুর রহমানের জন্ম ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি। অন্যদিকে শাবুর মিয়ার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং অপুর জন্ম ২০০৭ সালের ১২ মার্চ।
বিমানবন্দর সূত্র আরও জানায়, হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়ার বিদেশ ভ্রমণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে, দুই তরুণকে কেন মালয়েশিয়ায় নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনাটিকে এখনই মানব পাচারের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের অপারেশন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।