বিজ্ঞাপন
জিপিএ ২.৫ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ, ফুল ফান্ডে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জানুন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ এএম
বিজ্ঞাপন
স্নাতকে জিপিএ ২.৫ থেকে ২.৮ হলে যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি নীতিতে এই ফলাফল নিয়েও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। তবে ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা, ভর্তি পাওয়া এবং পড়াশোনার খরচের জন্য ফান্ডিং পাওয়া তিনটি আলাদা বিষয়।
বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে আগ্রহীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শর্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। এখানে উল্লেখ করা জিপিএ যুক্তরাষ্ট্রের ৪.০০ স্কেলের হিসাবে। বিদেশি ডিগ্রি ও ট্রান্সক্রিপ্ট কীভাবে মূল্যায়িত হবে, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট বের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় ন্যূনতম ২.৫ সমমানের জিপিএ চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ নীতিতে স্নাতকের সামগ্রিক ফল অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটের ফল বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে পছন্দের বিভাগের অতিরিক্ত শর্ত যাচাই করতে হবে।
ম্যাকনিস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকের সব কোর্স মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ অথবা স্নাতক পর্যায়ের উচ্চতর কোর্সগুলোতে ২.৭৫ থাকলে গ্র্যাজুয়েট ভর্তির সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করা যায়। এই শর্ত পূরণ করলেও নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য বাড়তি যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।
লামার ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একই জিপিএ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। উদাহরণ হিসেবে, এমবিএ প্রোগ্রামে স্নাতকের সামগ্রিক ফল অথবা শেষ ৬০ ক্রেডিটে জিপিএ ২.৫ গ্রহণযোগ্য। অন্য প্রোগ্রামে আবেদন করলে সেই বিভাগের নিজস্ব নিয়ম দেখতে হবে।
আর্কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নীতিতে স্নাতকের সামগ্রিক জিপিএ ২.৫০ অথবা শেষ ৬০ ক্রেডিটে ২.৭৫ চাওয়া হয়েছে। আগে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনা করে থাকলে সেসব কোর্সে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ প্রয়োজন।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুবিধা বুঝতেও সতর্কতা প্রয়োজন। পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আউট অব স্টেট বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য অতিরিক্ত টিউশন থেকে ছাড় পান। মাস্টার্স শিক্ষার্থীকে সাধারণত ইন স্টেট অংশের টিউশন দিতে হয়, যদি বিভাগ আলাদাভাবে তা বহন না করে। ফলে এই ছাড়কে সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়ার সুযোগ বলা যাবে না।
সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্যাটালগে মাস্টার্সে সাধারণ ভর্তির জন্য ন্যূনতম স্নাতক জিপিএ ২.৭০ উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা প্রোগ্রামের অনুমোদনও প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং, রিসার্চ ও প্রশাসনিক গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ব্যবস্থা রয়েছে, যার আবেদন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মাধ্যমে হয়।
ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট চ্যাটানুগায় সাধারণ ভর্তির একটি পথ হলো স্নাতকের সামগ্রিক জিপিএ ২.৭০। বিকল্পভাবে শেষ দুই বছরের স্নাতক কোর্সে জিপিএ ৩.০০ থাকলেও বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিছু প্রোগ্রামের শর্ত আরও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে প্রতি সেমিস্টার ৪ হাজার ৫০০ ডলার স্টাইপেন্ড এবং নয় ক্রেডিটের মেইনটেন্যান্স ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে।
রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত মাস্টার্স ভর্তির সাধারণ শর্ত সামগ্রিক স্নাতক জিপিএ অন্তত ২.৭। সামগ্রিক জিপিএ ২.৫ হলেও আবেদন বিবেচিত হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে জিপিএ অন্তত ৩.০ থাকতে হবে। তাই শুধু ২.৫ জিপিএ থাকলেই যোগ্যতা পূরণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট পর্যায়ের সাধারণ ভর্তি শর্ত হলো সামগ্রিক জিপিএ ২.৭৫ অথবা শেষ ৬০ স্নাতক ক্রেডিটে একই ফল। পৃথক প্রোগ্রাম আরও উচ্চ জিপিএ বা অতিরিক্ত যোগ্যতা চাইতে পারে।
ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের জন্য স্নাতকের সামগ্রিক জিপিএ অন্তত ২.৭৫ অথবা শেষ দুই বছরের কোর্সে অন্তত ৩.০ প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাসিক স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের সুবিধা রয়েছে। তবে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ধরে রাখতে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অন্তত ৩.০ জিপিএ বজায় রাখাসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।
ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু টিউশন মওকুফ হয়েছে কি না দেখলে চলবে না। অফারে কত ক্রেডিটের টিউশন অন্তর্ভুক্ত, বাধ্যতামূলক ফি দিতে হবে কি না, স্টাইপেন্ড কত মাস পাওয়া যাবে এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স আছে কি না, তা আলাদাভাবে দেখতে হবে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন বিভাগেও সুবিধার পরিমাণ ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা হতে পারে।
ভর্তি ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের পার্থক্য ওয়েস্টার্ন ইলিনয়ের প্রোগ্রামগুলোর মধ্যেই স্পষ্ট। কলেজ স্টুডেন্ট পারসোনেল প্রোগ্রামে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের যোগ্যতার জন্য ২.৭৫ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে সাইকোলজি প্রোগ্রামে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য সামগ্রিক ফল অথবা শেষ দুই বছরের ফলে ৩.০ প্রয়োজন, যদিও ২.৭৫ নিয়ে প্রবেশনভিত্তিক ভর্তির সুযোগ আছে।
কম জিপিএ নিয়ে আবেদন করার সময় তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তি যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট মূল্যায়ন এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের নিয়ম মিলিয়ে আবেদন করলে নিজের সুযোগ ও সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ভর্তি নিশ্চিত হলেও লিখিত ফান্ডিং অফার পাওয়ার আগে সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ হবে ধরে পরিকল্পনা করা উচিত নয়।