বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সমাজের নানামুখী সংঘাত নিরসন এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব নিয়ে অত্যন্ত সুন্দর একটি বার্তা শেয়ার করেছেন। নিচে তার সেই শিক্ষণীয় পোস্টটি তুলে ধরা হলো—
সব বিরোধের সমাধান শক্তি দিয়ে হয় না। কখনো প্রজ্ঞা, ন্যায়বোধ ও সবাইকে সঙ্গে নেওয়ার মানসিকতাই পারে সংঘাতকে ঐক্যে পরিণত করতে। এর এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)।
বাইতুল্লাহ সংস্কারকাজের সময় হাজরে আসওয়াদ পুনরায় যথাস্থানে স্থাপনের প্রয়োজন হলো। কিন্তু প্রশ্ন উঠল— কে এই পবিত্র পাথরটি যথাস্থানে স্থাপনের সম্মানের অধিকারী হবে?
সম্মান পাওয়ার এই আকাঙ্ক্ষা দ্রুতই গোত্রগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধে রূপ নিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারত রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে নবীজি (সা.) দিলেন এক প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধান।
তিনি একটি চাদর আনিয়ে তার ওপর হাজরে আসওয়াদ রাখলেন। এরপর প্রতিটি গোত্রের নেতাকে চাদরের একেকটি প্রান্ত ধরতে বললেন। সবাই মিলে পাথরটি নির্ধারিত স্থানের কাছে তুলে আনল। এরপর নবীজি (সা.) নিজ হাতে তা যথাস্থানে স্থাপন করলেন।
সত্যিকারের বিজয় সব সময় অন্যকে পরাজিত করার মধ্যে নয়; কখনো বিজয় হলো এমন একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া, যেখানে কেউ পরাজিত হয় না। বরং সবাই শান্তি, সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সহাবস্থান করে।
হাজরে আসওয়াদের সেই ঘটনা আজও শেখায়— ভাঙনের মুহূর্তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বড় অর্জন।
মহানবী (সা.)-এর জীবনের এই সুমহান ঘটনা আমাদের শেখায় যে, যেকোনো জটিলতা, বিভেদ কিংবা সংকটে শক্তি বা জেদ না দেখিয়ে প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়া উচিত। সবাইকে আস্থায় নিয়ে এবং অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে সংকট মোকাবিলা করতে পারলে কেবল রক্তক্ষয়ী সংঘাতই এড়ানো যায় না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রে স্থায়ী শান্তি, ঐক্য এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।