বিজ্ঞাপন
‘মিজানের ভাতের হোটেল’ ফের উচ্ছেদ করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ এএম
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘মিজানের ভাতের হোটেল’ ফের উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফুটপাতে চুলা বসিয়ে রান্না করার সময় সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মিজানকে রান্না করা খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে আশপাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনাও ভেঙে দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টার দিকে আগারগাঁও এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। ডিএনসিসির অঞ্চল-৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী উপস্থিত ছিলেন।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, এবার মিজানের ভাতের হোটেলে কোনো স্থাপনা ছিল না। ক্রেতাদের বসার জন্য রাখা চেয়ার-টেবিলও আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ফুটপাতের ওপর চুলা বসিয়ে খাবার রান্না করা হচ্ছিল। রান্নার লাকড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য সেখানে পুরোনো অনেক আসবাবপত্রও রাখা ছিল।
অভিযানকালে মিজানকে রান্না করা খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়। পরে পুরোনো আসবাবপত্রগুলো ভেঙে অপসারণ করা হয়। এভাবে ফুটপাতটি দখলমুক্ত করা হয়।
অভিযানটি আগারগাঁও থেকে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত চালানো হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান ও স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযানে থাকা ঢাকা উত্তর সিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ও মারুফা বেগম নেলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তাদের কেউই ফোন ধরেননি। খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় মিজানের ভাতের হোটেল উচ্ছেদ করেছিল ডিএনসিসি। সেদিন ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে হোটেলটির স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। ওই সময় মিজানের দোকানসহ তালতলার ফুটপাতের বিভিন্ন অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
এর কয়েক দিন আগে, ১০ আগস্ট মিজানের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে তখন বলা হয়েছিল, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর মিজান চড়াও হয়েছিলেন।
ওই ঘটনায় ১৪ দিন পর কারাগার থেকে বেরিয়ে মিজান জানিয়েছিলেন, তিনি আবার দোকান বসাবেন। ওই ফুটপাতে একটি দোকান থাকলে সেটি তার দোকান হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
মিজানের ভাতের হোটেল পরিচিতি পায় মূলত ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রির কারণে। প্রায় এক বছর আগে মিজানের ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
এরপর তার দোকানে ক্রেতার ভিড়ও বাড়তে থাকে। কম দামে গরুর মাংস ও ভাত পাওয়ায় মূলত নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ সেখানে খেতে আসতেন।
মিজান সকালে গরুর মাংসসহ রান্নার উপকরণ নিয়ে এসে ফুটপাতেই রান্না করতেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার দোকানে ক্রেতার ভিড় বাড়ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দোকানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় খাবারের পাশাপাশি ‘ভাইরাল মিজান’ নামটিও পরিচিতি পায়।