বিজ্ঞাপন
অস্ত্র বানানোর নির্দেশ ও হত্যাকাণ্ডের দায় নেওয়ার বক্তব্য, সেই চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
সহিংসতার প্রস্তুতি হিসেবে সমর্থকদের দেশীয় অস্ত্র তৈরির নির্দেশ এবং হত্যাকাণ্ডের দায় নেওয়ার কথা বলার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মোল্যার বিরুদ্ধে।
তার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে খুঁজছে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনায় চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন। নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের উদ্যোগে তার পক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শনিবার সকালে নিজ এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের ভিডিওকে খণ্ডিত ও এডিটেড দাবি করেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়েনদিয়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালথার খারদিয়া ও বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সম্প্রতি কয়েক দফা সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকার উজিরপুর বাজারে নিজ গ্রাম্যদলের সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।
ওই বক্তব্যের ১২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, “যে কোনো কিছু যদি করতে হয়, আমাদের না জানাইয়া যদি করো, এই দায়ভার তোমাদের। এটা আমরা কোনো লিডাররা নেব না। আর আমাদের নেতৃত্বে যদি কিছু হয়, দুইডা মার্ডার হোক আর পাঁচটা মার্ডার হোক, ওই দায়ভার আমাদের।”
সমর্থকদের উদ্দেশে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “আপনারা একতা মেনে থাকেন। আর একটা কথা, অস্ত্রগুণে সিপাহি নড়ে, যার যার অস্ত্র বানাইতে হবে।”
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের বিষয়ে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
গত শুক্রবার সকালে খারদিয়া কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যানের পক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে তার কর্মী-সমর্থকেরা অংশ নেন। সেখানে বক্তারা দাবি করেন, চেয়ারম্যানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
এর পরদিন শনিবার সকালে নিজ এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে অনুষ্ঠিত একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই এডিটেড ভিডিওর ভিত্তিতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাকে খুঁজছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। তাকে পাওয়া গেলে জিজ্ঞাসাবাদ বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, “যদুনন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”