বিজ্ঞাপন
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ইস্যুতে মাহমুদা মিতুর বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম
বিজ্ঞাপন
সালমান মুক্তাদির সেই ছেলেটা যে ,জুলাইয়ের রাজপথে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ১৭বছরের ধানক্ষেতে শীলংয়ে পালিয়ে থাকা অভুক্তদের পেটে চাঁদা ঢুকানোর ব্যবস্থা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতু। তিনি বলেন, যখন কেউ কথা বলতে সাহস পায় নি তখন প্রতিবাদ করেছে। সরি সালমান মুক্তাদির ,সব দোষ তোমার কিংবা আমার কিংবা আমাদের ,বাংলাদেশের জনগণের। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদা মিতু বলেন, যারা রাত জেগে স্ক্রল করে এই লেখাটা পড়বে হয়তো নিজের দোকান কিংবা বাড়ি সেইফ আছে দেখে কিছুটা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলবে তাদের সামনেও কিছু না করেও এমন দিন আসতে পারে। যেভাবে এমন দিন এসেছিলো রিয়া গোপের কিংবা বারান্দায় দাড়িয়ে গুলি খাওয়া সেই কিশোরীর নাইমার।
ওদের কোনো দোষ ছিলো না হাসিনা ওদের মাইরা ফালাইছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজকে সালমানেরও কোনো দোষ নাই ,গতকাল টিকাকেন্দ্র ভাংচুর করা ওখানেও কোনো অপরাধ হতো না। মহিষ মালিকের চাঁদা না দেয়ার কারণে যে মহিষগুলোকে বিষ খাইয়ে মারা হলো ওদের ও দোষ নাই।
পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে এসে এই দেশ উপহার দিছে জাতিকে। নূন্যতম কন্ট্রোলের ক্ষমতা নাই। মেয়েরে চাকরি দেয়, মন্ত্রীর ছেলেমেদের বড়লোক বানায় আর কার্ডের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ভন্ডামি শুরু করছে ।
তিনি আরও বলেন, কী জঘন্যভাবে দেশ চালাচ্ছে এরা! আর সালাউদ্দিন সাহেবের ভাবের ঠেলায় তো টেকা যায় না ,কথার ফুলঝুরি। চোখে মুখে কি অহমিকা! উনার কথা মনে হয় পুলিশ শোনেনা বা উনারে পাত্তা দেয় না। না হলে এমন অবস্থা কেন হবে? নূন্যতম লজ্জা কি আছে উনার? কিভাবে মুখ দেখায় উনি?
উল্লেখ্য,
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের দাবি, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
একটি ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’
ভিডিওর শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামুদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।’
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর একজন কর্মকর্তা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় আগন্তুকদের হাতে চাপাতি ও গান ছিল। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে উপস্থিত কর্মকর্তারা টয়লেটে লুকালে সেখানে গিয়েও তাদের অস্ত্র দেখিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে নেওয়া হয়।