বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে পুরোনো বন্ধু বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করেন ড. ইউনূস
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্লিনটন পরিবারের সঙ্গে ইউনূসের এই সাক্ষাৎ মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সামাজিক উদ্যোগের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে আয়োজিত দুই দিনের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইউনূসও সম্মেলনের আমন্ত্রিত বক্তাদের একজন ছিলেন।
মাইক্রোক্রেডিটের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ইউনূসের যোগাযোগ শুরু হয় কয়েক দশক আগে। ১৯৮০-এর দশকে বিল ক্লিনটন যখন আরকানসাসের গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল সম্পর্কে জানতে ইউনূসের সঙ্গে কাজ করেন। ক্লিনটন পরে নিজেই জানিয়েছিলেন, ১৯৮৪ সালে ওয়াশিংটনে একটি গভর্নরদের বৈঠকের সময় ইউনূসের সঙ্গে তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়। এরপর আরকানসাসে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণ দেওয়ার একটি কর্মসূচি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৮৬ সালে ইউনূস আরকানসাসের লিটল রকের গভর্নরের বাসভবনে ক্লিনটন দম্পতির সঙ্গে দেখা করেন এবং বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে আরকানসাসে গুড ফেইথ ফান্ড নামে একটি মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ কর্মসূচি গড়ে ওঠে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বিভিন্ন বক্তব্যে এই উদ্যোগের পেছনে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন।
হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গেও মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে ইউনূসের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে তিনি ক্ষুদ্রঋণকে নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং বিশেষ করে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির একটি উপায় হিসেবে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। ১৯৯৫ সালে মেয়ে চেলসি ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফরের সময় হিলারি ক্লিনটন গ্রামীণ ব্যাংকের একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি গ্রামীণ নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন।
ক্লিনটন লাইব্রেরির সংরক্ষিত নথি অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল হিলারি ও চেলসি ক্লিনটন যশোরে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি গ্রামভিত্তিক প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তারা ঋণগ্রহীতা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেন। পরদিন তারা ঢাকায় যান।
পরবর্তী বছরগুলোতেও হিলারি ক্লিনটন মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে তার আগ্রহের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি বলেছিলেন, আরকানসাসে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ও বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূসের পরামর্শে আরকানসাসে ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তাদের মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ২০০৬ সালে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং বিশেষ করে নারীদের আর্থিকভাবে সম্পৃক্ত করার মডেলটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়।
নিউইয়র্কে এবারের ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের মঞ্চে ইউনূসের অংশগ্রহণ সেই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক যোগাযোগেরই আরেকটি পর্ব হিসেবে সামনে এসেছে। বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ একই সঙ্গে বাংলাদেশে উদ্ভূত মাইক্রোক্রেডিট ধারণার যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তারের কয়েক দশকের ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।