Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার আগুনে নিহত বেড়ে ৭

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ এএম

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার আগুনে নিহত বেড়ে ৭

বিজ্ঞাপন

আশুলিয়ায় কারখানায় গ্যাস লরি বিস্ফোরণে নারীসহ নিহত ৭, আহত ২৫আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ৬জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

এর আগে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের প্রীতি নীট এন্ড কম্পোজিট কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে গুরুত্বর আহত ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থা উদ্ধার হওয়া তিনজনের একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মারা যায় বলে জানা যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কারখানার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতায় লরির ভেতরে থাকা ৫ জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে মারা যান।

অন্যদিকে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় লরির যন্ত্রাংশ বা সিলিন্ডারের একাংশ ছিটকে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানের সামনে থাকা জয়নব বেগম (৫৫) নামের এক পথচারী নারীকে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত জয়নব বেগম গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত জয়নব বেগমের মেয়ে জানান, তিনি জামগড়ায় দর্জির কাজ করেন। তাঁর মা কয়েক দিন আগে তাঁর বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন এবং মা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সিলিন্ডারের একটি অংশ এসে মাথার ওপর পড়লে মা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর ছেলেও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে জিরাবো ফায়ার স্টেশনে প্রীতি গ্রুপে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। তবে বাইপাইলের যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়। পরে খবরের ভিত্তিতে ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের ইউনিটও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। রাত ৭টা ১০ মিনিটে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পাঁচ থেকে ছয়টি কাভার্ড ভ্যানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ভেতরে কোনো হতাহত বা লোকজন পাওয়া যায়নি। রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে আগুনের শিখা নেই। তবে গ্যাসের উপস্থিতির কারণে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কাভার্ড ভ্যান ও এলপিজি সিলিন্ডারগুলো ঠান্ডা করার কাজ চলছে।

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কারখানার সামনে অবস্থানরত একটি লরির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের কোম্পানির পরিত্যক্ত একটি জায়গায়। বিস্ফোরণের সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী ছিটকে আসা সিলিন্ডারের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের সার্বিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, কারখানার ভেতর থেকে পাঁচজনের এবং বাহির থেকে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার