Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ক্যান্সার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সালেও, অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার রোগী

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

ক্যান্সার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সালেও, অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার রোগী

বিজ্ঞাপন

ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেডিওথেরাপি চিকিৎসায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ক্যান্সার রোগী রেডিওথেরাপির অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। তাদের অনেকের চিকিৎসার সিরিয়াল গিয়ে ঠেকেছে ২০২৮ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে। ফলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা রোগীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্র ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রেডিওথেরাপির জন্য থাকা একাধিক মেশিনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি সচল রয়েছে। এই দুটি মেশিনে তিন শিফটে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর তুলনায় এই সক্ষমতা অত্যন্ত কম হওয়ায় প্রতিদিনই অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।

রেডিওথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির পর রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। আবার কিছু রোগীর জন্য এটি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন রোগীর চিকিৎসায় একাধিক সেশন প্রয়োজন হওয়ায় একই মেশিনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে সীমিত সংখ্যক মেশিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহাখালীর এই সরকারি হাসপাতালে আসেন। সরকারি ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির খরচ অনেক বেশি হওয়ায় সবার পক্ষে সেখানে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে সরকারি হাসপাতালটির ওপর রোগীর চাপ আরও বাড়ছে।

পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে নতুন রেডিওথেরাপি রোগীদের সিরিয়াল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, অপেক্ষমাণ তারিখ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলে যাওয়ায় রোগীদের এত দীর্ঘ সময়ের সিরিয়াল দেওয়া অর্থবহ নয়। নতুন রোগীদের বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে জুলাই মাসের এক প্রতিবেদনে একই হাসপাতালে রেডিওথেরাপির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র উঠে আসে। তখনও কিছু রোগীকে এক বছরের বেশি সময় পরের তারিখ দেওয়া হচ্ছিল। চলতি বছরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাসপাতালের রেডিওথেরাপি যন্ত্রের সংকট এবং বিপুল রোগীর চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৫ সালেও হাসপাতালের একাধিক রেডিওথেরাপি মেশিন অচল হয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংকট কাটাতে নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন সংগ্রহ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক জানান, সরকারের অর্থায়নে নতুন একটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হয়েছে এবং সেটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের আট বিভাগীয় শহরে ক্যান্সারসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকামুখী রোগীর চাপ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বর্তমানে মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেডিওথেরাপির দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। মাত্র দুটি সচল মেশিন দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার