Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সভা আজ, আসছে বড় পরিবর্তন

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সভা আজ, আসছে বড় পরিবর্তন

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন চাঁদা দিতে না পারা গ্রাহকদের জন্য ‘এক্সিট প্ল্যান’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গ্রাহক বাড়াতে সর্বজনীন পেনশনে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ‘ইসলামী উইন্ডো’ চালু, পেনশন গ্রহণের বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করা এবং পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার মতো একগুচ্ছ প্রস্তাব উঠছে কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায়।

এসব প্রস্তাবের মধ্যে যেগুলোর জন্য নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন, সেগুলো অর্থমন্ত্রীর দপ্তরেও উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। পদাধিকারবলে অর্থমন্ত্রী জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। সভার আলোচ্যসূচি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধনকারী দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭ জন। বর্তমানে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণভাবে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে আজীবন পেনশন পাওয়ার বিধান রয়েছে।

৫০ বছরের বেশি বয়সী কেউ বিশেষ বিবেচনায় স্কিমে যুক্ত হলে নির্ধারিত সময় চাঁদা দেওয়ার পর পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান নিয়মে পেনশনার ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে নমিনি শুধু পেনশনারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পান।

নিষ্ক্রিয় গ্রাহকদের জন্য ‘এক্সিট প্ল্যান’ : সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিষ্ক্রিয় হিসাব। বর্তমানে পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর আগে স্বেচ্ছায় স্কিম ত্যাগ করে জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সাধারণ সুযোগ নেই। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সরকারি তথ্যতেও বলা হয়েছে, মৃত্যু বা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার মতো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া পেনশনযোগ্য বয়সের আগে স্কিম বন্ধ করে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই।

এই বাস্তবতায় দীর্ঘদিন চাঁদা দিতে না পারা গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘এক্সিট প্ল্যান’ চালুর প্রস্তাব করা হচ্ছে। আলোচ্যসূচি অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে আর চাঁদা চালিয়ে যেতে না পারলে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমাকৃত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

তবে কত টাকা ফেরত দেওয়া হবে, মুনাফার কী হিসাব হবে এবং স্কিম থেকে বেরিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে- এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হতে পারে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সেগুলো সমাধানের জন্য কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো এক্সিট প্ল্যান। এতে কেউ চাঁদা দিতে অক্ষম হলে অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা রাখা হবে।’

গ্রাহক টানতে ইসলামী উইন্ডো: সর্বজনীন পেনশন চালুর পর থেকেই শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ ও পেনশন ব্যবস্থার দাবি ছিল বিভিন্ন মহলে। এবার সেই দাবিকে বিবেচনায় নিয়ে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় পৃথক ‘ইসলামী উইন্ডো’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণে আগ্রহী নাগরিকদের জন্য আলাদা বিনিয়োগ ও মুনাফা ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে বর্তমানে পেনশন-ব্যবস্থার বাইরে থাকা ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

এর আগে চারটি স্কিমের ইসলামিক সংস্করণ চালুর উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগও নিয়েছিল। নতুন প্রস্তাবে পুরোপুরি আলাদা স্কিমের পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে একটি ‘ইসলামী উইন্ডো’ চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

৫৫ বছরেই পেনশন: বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সাধারণভাবে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে মাসিক পেনশন পাওয়ার বিধান রয়েছে। সরকারি তথ্যেও ৬০ বছরকে পেনশন পাওয়ার বয়স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় পেনশন গ্রহণের বয়স কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব সভায় আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর কমবে। এতে বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে স্কিমে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার বিষয়টি এখনো প্রস্তাব মাত্র। এটি বর্তমান নিয়ম নয়।

৭৫ বছরের পরও বিশেষ সুবিধা: দীর্ঘায়ু পেনশনারদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে ৭৫ বছর বয়স অতিক্রমের পর বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান নিয়মে পেনশনার ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে নমিনি তাঁর ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য মাসিক পেনশন পান। অর্থাৎ পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনির সুবিধা আজীবন নয়।

নতুন প্রস্তাবে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৭৫ বছর বয়স অতিক্রমকারী পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত বা বিশেষ সুবিধার কাঠামো নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

ঋণসুবিধা বহাল রাখার চিন্তা: পেনশন হিসেবে জমা অর্থের বিপরীতে ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়েও সভায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় চাঁদাদাতা তাঁর জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে উত্তোলন করতে পারেন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সরকারি তথ্যেও এ সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে।

কমিশন বাড়ানোর উদ্যোগ: সর্বজনীন পেনশনে নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়াতে কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হতে পারে। একই হারে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস- এমএফএস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কমিশন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আস্থার সংকট কাটানোর উদ্যোগ: সর্বজনীন পেনশন চালুর শুরুতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে নিবন্ধনের গতি কমে যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধনকারী তিন লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু নতুন গ্রাহক নিবন্ধন করলেই হবে না, যাঁরা এরই মধ্যে নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের নিয়মিত চাঁদা প্রদানে উৎসাহিত করাও জরুরি। সে কারণে এক্সিট প্ল্যান, ইসলামী উইন্ডো, নমিনির সুবিধা সম্প্রসারণ, পেনশনের বয়স কমানো এবং নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে সৃষ্টি হওয়া আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পাওয়ার পর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার