Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করলো লাওস

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করলো লাওস

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন করে কাজের অনুমতিপত্র দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক আমদানি ও সংশ্লিষ্ট শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ২০২৬ সালের শেষ দিন পর্যন্ত।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অবৈধভাবে প্রবেশ, মানবপাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং শ্রমিক নেওয়ার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা ও শ্রম অপারেটররা নিজেদের উদ্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে লাওসে প্রবেশ করানো বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবেন না। একইভাবে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন শ্রম ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনও বন্ধ থাকবে।

তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য আগে থেকেই সরকারি অনুমোদন পাওয়া বড় ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।

অর্থাৎ নতুন করে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলেও আগের অনুমোদন পাওয়া নির্দিষ্ট সরকারি প্রকল্পগুলো চালু রাখার সুযোগ থাকছে।

নির্দেশনায় অনুমতি ছাড়া শ্রমিক নেওয়া বা কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একাধিক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি শ্রমিক আমদানি বা নিয়োগ করলে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের ঘটনায় নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ, যা প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার, জরিমানা দিতে হবে। অন্য শ্রম ইউনিটে পুনর্বণ্টনের উদ্দেশ্যে শ্রমিক আমদানি করলেও একই জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে অন্য কোনো শ্রম ইউনিটে কর্মরত শ্রমিককে অনুমতি ছাড়া কাজে নিলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে প্রতি শ্রমিকের জন্য ২০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৮৯ ডলার জরিমানা দিতে হবে।

কোনো শ্রমিক অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থল ছেড়ে অন্য জায়গায় কাজ করলে প্রতি ব্যক্তি ও প্রতি ঘটনার জন্য ১০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৪৪ ডলার জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।

শ্রমিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচও বহন করতে হবে নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে। একই ধরনের অপরাধ পুনরায় ঘটলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তির কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

লাওসে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি নাগরিক কাজ করছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেই সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, নতুন সিদ্ধান্তে কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

বাংলাদেশ থেকে লাওসে শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে নির্মাণ ও উৎপাদন খাত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার অনুমোদন বন্ধ থাকায় এসব খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হতে পারে।

তবে কতজন বাংলাদেশি কর্মী সরাসরি এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন কিংবা বাংলাদেশের শ্রমবাজারে এর প্রভাব কতটা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার