বিজ্ঞাপন
ইউপি নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীদের ২১তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার হাতে
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ এএম
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ২১ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর ও মেম্বার পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এসব তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের ব্যক্তিগত, পেশাগত ও রাজনৈতিক পরিচয়, মামলা, জনপ্রিয়তা এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তথ্য থাকছে।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও গাজীপুরসহ কয়েকটি জেলা ও নগরে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ নিয়মিত কাজের অংশ। নির্বাচনের আগে ও পরে পরিস্থিতি মূল্যায়নে এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করছে।
উপজেলা ও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান-মেম্বার এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় মেয়র-কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম, বাবা-মায়ের নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচয়, ইতিবাচক-নেতিবাচক তথ্য, মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা, মামলা, পাসপোর্ট নম্বর, ঘনিষ্ঠ ও নিকটতম সহযোগীদের বিবরণ এবং ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২১ ধরনের তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অনেক জেলা, উপজেলা ও নগরের তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের এক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী জানান, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তার জীবনবৃত্তান্ত নিয়েছে। আগের নির্বাচনেও একইভাবে তথ্য নেওয়া হয়েছিল।
সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের এক সম্ভাব্য প্রার্থী বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ও গণসংযোগ দেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য নেয় গোয়েন্দারা। গোপনে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন তারা।
ঢাকার সাভার পৌরসভায় বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী খোরশেদ আলম ও ধামরাই পৌরসভায় বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী নাজমুল হাসান অভি জানান, গোয়েন্দারা তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখেন। আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীও একই তথ্য দিয়েছেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত সমর্থিত একাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীও গোয়েন্দাদের কাছে জীবনবৃত্তান্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নির্দলীয় নির্বাচন, দলীয় সমর্থনের প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেম্বার পদে দলীয় সমর্থন থাকবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। কাউন্সিলর পদেও প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে অনেক এলাকায় স্থানীয়ভাবে সংসদ সদস্য ও নেতারা চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। এর বাইরে অনেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকার পাশের সাভারের কয়েকটি ইউনিয়নেও একই চিত্র দেখা গেছে।