Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

একইসাথে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও কুরআনের হাফেজ জুবায়ের হোসাইন

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

একইসাথে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও কুরআনের হাফেজ  জুবায়ের হোসাইন

বিজ্ঞাপন

একসঙ্গে কোরআনের হাফেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশলী এবং মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন জুবায়ের হোসাইন। পাশাপাশি তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাযাত্রার গল্প সম্প্রতি ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। সেখানে জুবায়ের নিজের পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।

জুবায়েরের শিক্ষাজীবনের শুরু টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ২৭৩তম স্থান অর্জন করেন। একই সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান তিনি। তবে প্রকৌশল শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থেকেই শেষ পর্যন্ত বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন।

বুয়েটে পড়ার সময়ই প্রচলিত পড়াশোনার বাইরে নিজের আগ্রহের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন জুবায়ের। তড়িৎ প্রকৌশলের পাশাপাশি কোডিং প্রতিযোগিতা, তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যবিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে চাকরিতেও যুক্ত হন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এসব কাজের বেশ কয়েকটি ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরবর্তীভাবে পরিচালিত।

স্নাতক শেষ করার পর জুবায়ের তড়িৎ প্রকৌশলেই স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। একই সময়ে জীবচিকিৎসা প্রকৌশল নিয়ে একটি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরিবারের একজন সদস্য ক্যানসারে মারা যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাকে নির্ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে বলে জানান তিনি।

এরপর চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য জীবনের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেন জুবায়ের। ২০২০ সালে আবারও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমমানের ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেন। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশেই কোনো মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা। চেষ্টা করেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে কিরগিজস্তানের কিরগিজ স্টেট মেডিকেল একাডেমিতে ভর্তি হন। সাক্ষাৎকারের সময় তিনি সেখানে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানান।

চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন জুবায়ের। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তথ্যবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রকস্ট্রিমে কাজ করেছেন। এর আগে বিস্তা সলিউশনস ইনকরপোরেটেডে জ্যেষ্ঠ যন্ত্রশিক্ষা প্রকৌশলী হিসেবেও কাজ করেছেন। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও তথ্যবিজ্ঞানের পেশাগত কাজও তার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

জুবায়েরের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তিনি কোরআনের হাফেজ। ছোটবেলায় তিনি এমন একটি সমন্বিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে হিফজের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশোনাও করানো হতো। সেখানেই তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান।

হিফজ শেষ করার পরও নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও তারাবির নামাজের মাধ্যমে মুখস্থ পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতি রমজানে তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন বলে জানান জুবায়ের। ঢাকায় অবস্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে কয়েক বছর তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। পরে কিরগিজস্তানে যাওয়ার পরও স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষা ও কর্মজীবনের একাধিক ভিন্ন পথে এগিয়ে চললেও জুবায়েরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশকে ঘিরে। দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি নিজের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার। প্রকৌশল, তথ্যবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে তার যে পথচলা, সেটিই তার শিক্ষাজীবনকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে।

জুবায়ের হোসাইনের গল্পটি প্রচলিত শিক্ষাপথের বাইরে নিজের আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী একাধিক জ্ঞানক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ। তবে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনগুলোর তথ্য তার নিজের বক্তব্য এবং ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে। তার পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আগ্রহ ধরে রেখে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার