বিজ্ঞাপন
১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার পেলেন না কৃষক
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ভোর ৩টায় ডিলার পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছেনা সার। ঘণ্টা পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেও সার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় বাড়ি ফিরছেন কৃষকরা। এতে করে আমনের ফলনে বিপর্যয় ঘটার আশংকা করছেন তারা।
আজ(১৫ সেপ্টেম্বর) জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৩ টা থেকেই হাজার হাজার কৃষক জড়ো হতে থাকে মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টে। সকাল ৬ টা পর্যন্ত পুরুষ এবং মহিলার দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এরপর কয়েক হাজার কৃষকের সমাগমে দেখা দেয় হট্টগোল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে সিরিয়াল ভঙ করে সার উত্তোলন করতে দেখা গেছে কৃষকদের। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই সার না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
চরসাজাই গ্রামের তাইছার আহমেদ বলেন, সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৫ টায় আসি।অনেকে তো আরো আগেই এসেছে। এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রচন্ড গরমে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে সার না পেয়ে চলে আসলাম। কৃষি বিভাগ বলছে সারের সংকট নাই, তাহলে আমি সার পেলামনা কেন?
সুরমান ও সাদেক আলী নামের দুই কৃষক বলেন, আমরা ভোর ৩ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাইনি।সার বিতরণ করেছে ৫৬০ বস্তা আর কৃষকের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার বস্তা। কৃষক সার না পাইলে এবারের ধানের আবাদে চরম ব্যাঘাত ঘটবে।
মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, আমরা ৪৬ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলাম। কয়েকদিন আগে ১৮ টন বিতরণ করেছি আর আজ ২৮ টন বিতরণ করলাম। এ ইউনিয়নে মাত্র দুইজন ডিলার হওয়ায় চাপ অনেক বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামাড় বাড়ি কুড়িগ্রামের উপ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রোপা আমনের জন্য সারের কোন ঘাটতি নেই। সামনে কৃষকরা ভুট্টা চাষ করবে তাই সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, আর এই কাজটা চরাঞ্চলের মানুষ বেশি করছে। অথচ ভুট্টা এবং আলুর জন্য আরো বেশি সার বরাদ্দ দেওয়া হবে।