Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

সহপাঠীর বাবার হাতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী নির্মম ধর্ষণের পর খুন

মেঝেতে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

সহপাঠীর বাবার হাতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী নির্মম ধর্ষণের পর খুন

বিজ্ঞাপন

জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে বসতঘরের মেঝেতেই লাশ মাটিচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে। নিহত শিশুটির নাম মরিয়ম। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ শোবার ঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ পুঁতে রাখে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু মরিয়ম ও অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের মেয়ে একই বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। বয়সে সমবয়সী এবং বিদ্যালয়ের সহপাঠী হওয়ার কারণে শিশু দুটি প্রায়ই একে অপরের বাড়িতে খেলাধুলা করতে যেত। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে প্রতিদিনের স্বাভাবিক নিয়মে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হয় মরিয়ম। তবে নির্ধারিত সময়ে সে বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মরিয়মের মা মোছাম্মাদ ববিতা বেগম কনকনে দুশ্চিন্তা নিয়ে মেয়ের খোঁজ নিতে বিদ্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে কথা বলে তিনি জানতে পারেন যে মরিয়ম সে দিন ক্লাসে আসেনি।

মেয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা দ্রুতই আত্মীয়স্বজনের বাড়ি এবং আশপাশের সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো উপায় না পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় এলাকার বিভিন্ন পুকুর, নালা ও জলাশয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। তবে পুরো দিন ও রাত পেরিয়ে গেলেও অবোধ শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ পরিস্থিতিতে স্বজনরা নিরুপায় হয়ে ওই দিনই মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন।

পরবর্তীকালে গোপন সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের বসতবাড়িতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে জামিলুলের ঘরের মেঝেতে সদ্য খোঁড়া ও ভরাট করা মাটির অস্তিত্ব দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের উপস্থিতিতে শোবার ঘরের মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ শিশু মরিয়মের নিথর ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত জামিলুলের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফাঁকা ঘরে একা থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামিলুল ওমেদা শিশু মরিয়মকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে। শিশুটি যাতে এই ঘটনা কাউকে বলে দিতে না পারে, সে জন্য আসামি জামিলুল ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আলামত ধ্বংস করতে ঘরের মেঝেতে দ্রুত একটি গর্ত খুঁড়ে মরদেহটি মাটিচাপা দিয়ে রাখে সে।

ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা ও আলামত গোপনের অভিযোগে পুলিশ জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ববিতা বেগমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন রোববার নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে প্রধান আসামি জামিলুল ইসলাম জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিমের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ভয়াবহ ও মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো সিধুলী ইউনিয়নসহ সমগ্র জামালপুর জেলায় গভীর শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সহপাঠীর বাবার হাতে এভাবে অবোধ শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় মানুষজন ও শিক্ষার্থীরা স্তম্ভিত। কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহত শিশুটির মামা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ক্ষোভ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করে বলেন, অবোধ শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো, তা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আক্ষেপ করে দেশের বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ জানান এবং আসামির দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এলাকাবাসীর দাবি, শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুগতিতে বিচার সম্পন্ন করে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার দুঃসাহস না পায়। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে, যাতে ভুক্তভোগী পরিবারটি দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার