Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে আর কত দিন, যা জানা গেল

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে আর কত দিন, যা জানা গেল

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। অনুমোদনের পর দ্রুতই গেজেট প্রকাশের কথা থাকলেও এখনো প্রজ্ঞাপনের খসড়াই আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি।

খসড়াটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন পে স্কেল ঘোষণার পরও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলছেন, প্রতি পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার কথা থাকলেও গত ১০ বছরে তা হয়নি। এখন অনুমোদন হলেও তা বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। এতে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করে বাংলাদেশ সরকার। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়। তখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে।

তবে প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। যদিও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি অনেক সময় মাসও লেগে যেতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন পর নতুন পে স্কেলের ঘোষণা আসায় এবার বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা বেশি থাকায় হতাশাও তৈরি হয়েছে।

এদিকে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তবে দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে না যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—কেন এত সময় লাগছে? যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি হতে আরও কত সময় লাগতে পারে?

চলতি বছরের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর, ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপ হলো প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া প্রস্তুত করা। এই কাজটি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।


সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, নতুন পে-স্কেলের অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রিসভায় যে খসড়া পাঠানো হয়, সেখানে মূলত কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে, তার একটি সামগ্রিক প্রস্তাব থাকে। কিন্তু মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া তৈরি করতে হয়। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন শ্রেণির ক্ষেত্রে কিভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হবে, সেটিও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে এসব কাজ সম্পন্ন করতেই বেশ কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর সঙ্গে সংবিধান বা চাকরি-সংক্রান্ত কোনো আইন বা বিধির বিরোধ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।

একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ, বাক্য ও আইনি পরিভাষায় কোনো অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো পরবর্তীতে কোনো আইনি জটিলতা বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ বন্ধ করা।

এ ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য যেসব বিধিমালা বা সংবিধিবদ্ধ আদেশ জারি করা প্রয়োজন, সেগুলোর খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়।

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ জানান, এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

চূড়ান্ত খসড়া পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেটি মুদ্রণের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়, অর্থাৎ বিজি প্রেসে পাঠান। মুদ্রণ শেষে তা সংগ্রহ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।

গত রবিবার বিকেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা শুনেছিলাম, দুই-এক দিনের মধ্যেই অনুমোদিত পে স্কেলের খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি আমাদের হাতে আসেনি।’ খসড়াটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের দুই সপ্তাহ পরও খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে না যাওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আসলে আটকে রাখার বিষয় নয়। গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেগুলো মেনেই কাজ করতে একটু সময় লাগছে।’

মূলত সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির কাজও চলছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্রুতই ভেটিংয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার