বিজ্ঞাপন
‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করে ঢাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন ছাত্রলীগ নেত্রী
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ এএম
বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী তাহসিন জাহান। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
তাহসিন জাহান বলেন, চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি পাওয়ার কথা ছিল তার। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তা গ্রহণ করেননি।
পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কোনো পুরস্কারের মর্যাদা তার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। তার ভাষ্য, পুরস্কারটি গ্রহণের অর্থ হতো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপন করা, যে প্রতিষ্ঠান হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাহসিন জাহান দাবি করেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের আক্রমণের শিকার হন। তার অভিযোগ, তাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নেওয়া ও স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে একপর্যায়ে ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারেননি তিনি।
তবে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক তার শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তাহসিন। তাদের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এসব শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান তাহসিন।
তবে একই পোস্টে ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’-এর সমালোচনা করে তার ওপর সংঘটিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাহসিন জাহান আরও দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব থেকেছে এবং ‘মৌলবাদী মবকে’ নীরবে সমর্থন করেছে।
তিনি বলেন, কারাগারে থাকা গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর জন্য এসব প্রতিষ্ঠানেরও দায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার পতনের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না—এমন প্রশ্নও তোলেন তাহসিন। একই সঙ্গে এসব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এখন কী অজুহাত দেখানো হচ্ছে, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।
তাকে সহযোগিতা করা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাহসিন বলেন, তার অর্জনের পেছনে এসব শিক্ষকের অবদান রয়েছে। তবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও এমন একটি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া পুরস্কার গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করতে পারেন না তিনি।
তাহসিন জাহান বলেন, তার সিদ্ধান্ত কোনো পুরস্কারকে ছোট করার জন্য নয়; বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার ও ভবিষ্যৎ হারানো সহপাঠীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়।’ একই সঙ্গে ‘আমরাই বিকল্প, আমরাই পরিবর্তন’—এমন দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না।