Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে লাইভে এসে যা বললেন আসিফ মাহমুদ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে লাইভে এসে যা বললেন আসিফ মাহমুদ

বিজ্ঞাপন

নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম এবং চার দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন করে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি প্রক্রিয়ার অংশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেসবুক লাইভে এসে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধান এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

নিজের বিরুদ্ধে চার দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে যথাক্রমে ৫ হাজার ৫০০ কোটি, ৩ হাজার কোটি, ২ হাজার কোটি ও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের যে অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো ‘রাউন্ড ফিগার’। এ ধরনের অঙ্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে একটি পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে দুদকের অনুসন্ধানের প্রসঙ্গ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ওই পদোন্নতি চলতি বছরের মে মাসে বিএনপি সরকারের আমলে হয়েছে। সে সময় তিনি পদত্যাগ করার কয়েক মাস পর এবং বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন মাস পর ওই পদোন্নতি হয়। তাই ওই ঘটনায় তাকে কীভাবে দায়ী করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

দুদকের মুখপাত্র তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলেছিলেন দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, পরে সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বলা হয়। এ ঘটনায় তিনি আইনি নোটিশ পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাননি বলে জানান।

শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো, জমি অধিগ্রহণ এবং নতুন অবকাঠামো যুক্ত হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে এবং এর কাজ এখনো চলমান বলেও জানান তিনি।

দুদকের অনুসন্ধানের সূত্র হিসেবে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগের সঙ্গে ওই প্রতিবেদনের তথ্য ও অর্থের অঙ্কের মিল রয়েছে।

এ সময় গণমাধ্যমের কিছু শিরোনামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুদক যেখানে অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরুর কথা বলেছে, সেখানে কিছু গণমাধ্যমের শিরোনামে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে, এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তার বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে চলমান প্রক্রিয়ার পেছনে কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার অসন্তোষ ও প্রতিশোধের বিষয় রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বাইরে তার এক টাকা বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলেও তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

নিজের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগে জড়ানোরও সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, তার দুই ভগ্নিপতি রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হলেও তার একজন ভগ্নিপতি। আর তার ভাগ্নের বয়স আড়াই থেকে তিন বছর। এত ছোট শিশুকেও অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সবশেষে জনগণকে শুধু সংবাদ শিরোনাম দেখে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানান সাবেক এই উপদেষ্টা। অভিযোগের পাশাপাশি তার বক্তব্যও শুনে বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’-এর ফেসবুক পেজে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ওই পোস্টে দেশভেদে অর্থের যে অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছিল, দুদকের বর্তমান অনুসন্ধানের অভিযোগেও প্রায় একই অঙ্ক ও দেশগুলোর নাম রয়েছে।

একই পোস্টে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করা হয়েছিল। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ ছিল। পরে দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সঙ্গে ওই পোস্টের তথ্যের মিল পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ‘প্রোপাগান্ডা পেজ’ হিসেবে পরিচিত ওই পেজে তার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, দুদকের বর্তমান অনুসন্ধানের অভিযোগের সঙ্গে তার মিল রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত কথা বলবেন বলেও জানান।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার