বিজ্ঞাপন
বন্ধুকে হত্যারপর মরদেহ লুকিয়ে পরিবারের সঙ্গে খোঁজাখুঁজি করে মাসুম
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ এএম
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বালুর নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখার পরও রনির পরিবারের সঙ্গে মিলে তাকে খোঁজার অভিনয় করার অভিযোগ উঠেছে তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী মাসুমের বিরুদ্ধে।
পুলিশ বলছে, পাওনা তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রনিকে হত্যা করা হয়। পরে নিজের বাসা-সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় বালুর নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখেন মাসুম। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়ির নিচতলার ফাঁকা জায়গায় বালু খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শেখ ওয়াসিম রনি যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকার বাসিন্দা। তিনি জমি বেচাকেনাসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে মাসুম চকবাজারের আশিক টাওয়ারে ইমিটেশন অলংকারের ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাসুমের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। মাসুমের কাছে রনির তিন লাখ টাকা পাওনা ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই টাকা ফেরতের চেক আনতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন রনি। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সেদিন সন্ধ্যায় রনির মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম তার মাকে সঙ্গে নিয়ে বাবার খোঁজে মাসুমের বাসায় যান। সেখানে তখন মাসুমের স্ত্রী ছিলেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুম দাবি করেন, তিনি রনিকে পাওনা টাকার চেক দিয়ে দিয়েছেন। এরপর রনি কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না।
এরপর রাতে লালবাগ থানায় রনির নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, জিডি করার সময়ও মাসুম তাদের সঙ্গে ছিলেন। এমনকি রনিকে খুঁজে বের করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনিও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম বলেন, ‘সেদিন রাতে লালবাগ থানায় জিডি করার সময়ও মাসুম ছিলেন। বাবাকে খুঁজতে সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করছিলেন তিনি। মাসুমের বাসার গলির একটি সিসিটিভি ফুটেজে বাবাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে দেখা যায়। গলির কিছু দূরে আরেকটি সিসি ক্যামেরায় অবশ্য তাকে আর দেখা যায়নি।’
তদন্তে নেমে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। একটি ক্যামেরার ফুটেজে রনিকে মোটরসাইকেলে করে মাসুমের বাসার গলিতে ঢুকতে দেখা যায়। তবে গলির অন্যপ্রান্তের ক্যামেরায় তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। ওই দুই ক্যামেরার মাঝখানেই ছিল মাসুমের বাসা।
এ ঘটনায় মাসুমের ওপর পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বালুর নিচ থেকে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামিল হোসেন জানান, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাসুমের সঙ্গে রনির কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুম রনিকে ঘুষি মারলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। পরে তার হাত-পা বেঁধে গলা টিপে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মাসুম।
ওসি বলেন, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে বাসার নিচতলার ফাঁকা জায়গায় গর্ত করে রনির মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়। মরদেহটির হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় বালুর নিচে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাসুমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যার পেছনে পাওনা তিন লাখ টাকা ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।